প্রতিবেদন: রাজ্য রাজনীতিতে সোমবার সৌজন্যের এক অনন্য নজির রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সকালে সাড়ে দশটার কিছু পর তিনি হাজির হলেন হালিশহরে মৃত তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটার বাড়িতে। পুলিশ লক আপে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিবারের অভাব, অভিযোগের কথাও শোনেন। রবিবার দুপুরে হালিশহরে বিরজুর বাড়ি যাওয়ার পথে জনরোষের মুখে পড়েন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। সেই ঘটনার রেশ মিলিয়ে যেতে না যেতেই এদিন সকালে হালিশহরে পৌঁছে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী।
মৃত বিরজুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওই
পরিবারকে আমি আমার কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি। তারা এই মৃত্যুকে নিয়ে কোনও রাজনৈতিক স্লোগান দেয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসার পরও বাড়ির লোক ওনার সঙ্গে দেখা করেননি। মৃতের দাদা বলেছেন, আমরা বিচার চাই, আর বিচার দিতে পারবে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসন। অর্থাৎ, মৃতের পরিবার রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের উপর আস্থা রেখেছেন। এটা বড় পাওনা। তারপরই রাজ্যের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের উদাহরণ টেনে বলেন, তাদের সময়ে একটা উদাহরণও দেখাতে পারবেন না যে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক প্রধান মুখ্যমন্ত্রী, ডিজিকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক ভিন্ন মত পোষণ করা কোনও কর্মীর বাড়িতে এসেছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এদিন হালিশহরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়, নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিং, জগদ্দলের বিজেপি বিধায়ক রাজেশ কুমার, বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার-সহ অনেকে।

Be the first to comment