রোজদিন ডেস্ক : অভিশপ্ত মঙ্গলের পর কেটে গেছে ৫ টি দিন। এই ৫ দিন পহেলগাঁও থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকার পর ফের বৈসরন উপত্যাকায় পা রাখতে শুরু করলেন পর্যটকরা। সংখ্যায় কম হলেও দেশি বিদেশি পর্যটকরা এদিন বৈসরনে আসেন।
এদিন কলকাতা, বেঙ্গালুরু, মহারাষ্ট্র, গুজরাট থেকে পর্যটকদের দল পহেলগাঁওয়ে যায়। সঙ্গে ছিল ক্রোয়েশিয়ার পর্যটকরাও। প্রত্যেকেই জানান, এই অঞ্চলের নিরাপত্তার প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে। উদ্বেগ থাকলেও অনেকেই তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে চান। কলকাতার এক পর্যটক জানান, ‘কাশ্মীর এখন নিরাপদ, সবকিছু খোলা আছে, পর্যটকরা নিরাপদ, সবাই আসছে, তাই যদি আপনার কোন পরিকল্পনা থাকে তবে দয়া করে আসুন।’ গুজরাটের সুরাটের থেকে এসেছেন মহম্মদ আনাস। তাঁর মতে, ‘পহেলগামে সব পরিস্থিতি স্বাভাবিক, ব্যবসা স্বাভাবিকভাবেই চলছে। চিন্তার কিছু নেই। সেনাবাহিনী, সরকার এবং স্থানীয়রা আমাদের সঙ্গে আছে এবং আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে… ঘটনার পর আমরা ভীত ছিলাম, তাৎক্ষণিকভাবে চলে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু স্থানীয়রা এবং সেনাবাহিনী আমাদের অনুপ্রাণিত করেছিল এবং আমরা আমাদের ভ্রমণ চালিয়ে গিয়েছি।’ ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়া থেকে আসা ট্যুরিস্টরা জানান, হামলার পরও তাঁরা ভীত বা অস্বস্তি বোধ করেননি। তাঁরা বলেন, ‘আমরা এখানে ৩-৪ দিন ধরে আছি এবং আমরা খুব নিরাপদ বোধ করছি। আপনার দেশ খুব সুন্দর, এবং আমাদের কোনও সমস্যা হয়নি। কাশ্মীর সুন্দর এবং নিরাপদ… মানুষ খুব দয়ালু। আমরা কাশ্মীরে পৌঁছানোর একদিন আগে এই ঘটনার কথা শুনেছিলাম। আমরা যাইহোক এখানে এসেছি। আমরা নিরাপদ বোধ করছি।’ আরও এক ক্রোয়েশিয়ার পর্যটক জানান, এমন ঘটনা পৃথিবীর যেকোনও প্রান্তে ঘটতে পারে। পৃথিবীতে কোথাও নিরাপদ স্থান নেই।’
বিগত কয়েকদিনে শুধুই পর্যটকদের কাশ্মীর ছেড়ে যেতে দেখেছেন স্থানীয়রা। যে বৈসরন ভ্যালিতে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার লোকের ভিড় হত, সেখানে ১০০ জনও আসেননি। রবিবারই প্রথম তুলনামূলক ভাবে কিছুটা বেশি সংখ্যায় পর্যটক এলেন। প্রথম দিন দুয়েক এই এলাকাটাই বন্ধ রেখেছিল নিরাপত্তাবাহিনী। এখন আবার খুলে দিয়েছে, তবে বৈসরনের সবুজ মাঠ যেখানে হত্যালীলা চালানো হয় সেটা এখনও বন্ধ। জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা পর্যটকদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, কাশ্মীরকে এড়িয়ে না যাওয়ার জন্য। তিনি বলেন, ‘আমি পর্যটকদের মধ্যে ভয় বুঝতে পারছি। যারা এখানে ছুটি কাটাতে আসেন তারা কোনও ভয় অনুভব করতে চান না। তবে আমি তাদের বলতে চাই যে এই সময়ে যদি তারা কাশ্মীর ছেড়ে চলে যান, তাহলে আমাদের শত্রুরা জয়ী হতে পারে। তারা পর্যটকদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল কারণ তারা সমস্ত পর্যটকদের কাশ্মীর থেকে বের করে দিতে চেয়েছিল।’
পর্যটকদের এই নিরপত্তা বোধই ছন্দে ফেরাতে পারে কাশ্মীরকে। পর্যটন শিল্প উন্নতি হলে সবেচেয়ে বেশি করে উপকৃত হবেন স্থানীয়রা। অর্থনীতি চাঙ্গা হলে সব ঠিক।

Be the first to comment