রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- আর জি কর আন্দোলনের অন্যতম তিন মুখকে একদিনে বদলি করা হল। আর এই বদলি ঘিরে শুরু হল বিতর্ক। ব্যাখ্যা চেয়ে স্বাস্থ্যভবনে হাজির হয়েছে জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট। নেপথ্যে প্রতিহিংসা বলে অভিযোগ চিকিৎসকদের।
আর জি কর আন্দোলনের অন্যতম তিন মুখ দেবাশিস হালদার, অনিকেত মাহাতো, ও আসফাকুল্লা নাইয়া। দেবাশিস হালদারকে বদলি করা হল মালদার গাজোলে। এনিয়ে বিতর্ক ছড়িয়েছে। কলকাতা মেডিকেল কলেজের অ্যানাস্থেশিয়া বিভাগে সিনিয়র রেসিডেন্ট ডাক্তার হিসেবে কর্মরত দেবাশিস।
অভিযোগ, কাউন্সেলিংয়ে হাওড়ায় নিয়োগের কথা বলা হলেও মেধাতালিকা বেরোনোর পর দেখা গিয়েছে, দেবাশিসের পোস্টিং হয়েছে মালদার গাজোলে। জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি, তালিকা যাচাই করে দেখা যাচ্ছে, গাজোলের ওই হাসপাতালে আদতে কোনও শূন্যপদই ছিল না।
অনিকেত মাহাতোকে রায়গঞ্জ ও আসফাকুল্লাকে পুরুলিয়ায় বদলি করা হয়েছে। কী কারণে এটা হল তার ব্যাখ্যা চাইতে এদিন স্বাস্থ্যভবনে হাজির হয় জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট। জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের দাবি, এই সিদ্ধান্ত প্রতিহিংসামূলক। এই সিদ্ধান্ত বদল করা না হলে তাঁরা আইনের দ্বারস্থ হবেন। এই ধরনের ঘটনার কোনও নজির নেই। যদিও এবিষয়ে সরকারিভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি স্বাস্থ্যভবনের তরফে।
এর প্রতিবাদে সরব হয়েছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম (ডব্লিউবিডিএফ)-এর সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই দেবাশিসকে মালদা জেলায় বদলি করা হল। কারণ ২৭, ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৬ মার্চের কাউন্সেলিংয়ে মোট ৭৭৮ জন চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের কারও পোস্টিং এভাবে বদলানো হয়নি। শুধু দেবাশিসের ক্ষেত্রেই এমনটা হয়েছে।
দেবাশিসের কথায়, ‘এত জনের নামের তালিকা প্রকাশিত হল, অথচ শুধু আমার ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, নামের পাশে হাসপাতালের নাম বদলে গিয়েছে! প্রতিহিংসা ছাড়া এর পেছনে তো অন্য কোনও কারণ দেখছি না।’ ঘটনায় আইনি সাহায্য নেবেন বলেও জানিয়েছেন দেবাশিস। অন্যদিকে, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই প্রতিবাদে সরব হয়েছেন ডব্লিউবিজেডিএফের চিকিৎসকেরা। এই পোস্টিংয়ের প্রতিবাদে মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবনেও যান তাঁরা।

Be the first to comment