রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- রাজ্যের কলেজ, স্কুলের ক্যাম্পাসে সুস্থ পরিবেশ ফেরাতে সোমবার সিপিআই(এম)-এর ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে সমাবেশ। দেড় মাস ধরে রাজ্য জুড়ে এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রচার হয়েছে। ছাত্রদের অধিকার রক্ষা করতে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারের সাথে দেখা করেছে এসএফআই নেতৃত্ব। সোমবার কলেজ স্ট্রিটে ছাত্র সমাবেশে একথা বলেছেন এস এফ আই রাজ্য সভাপতি প্রণয় কার্য্যী।
তিনি বলেন, আদিবাসী ছাত্র ছাত্রীদের জন্য লড়াই করেছে এসএফআই। আজ প্রতিটি ছাত্রের অধিকার আক্রান্ত। গোটা রাজ্য ঘুরে বোঝা গিয়েছে, আজ এই রাজ্যে লেখা পড়ার অধিকার নেই। এসএফআই যখন বলছে এই সব কথা, সরকার বলছে চুপ থাকতে। পুলিশকে তৃণমূল ব্যবহার করছে ছাত্রদের বিরুদ্ধে।
ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে লড়াই করতে গিয়ে সুদীপ্ত গুপ্ত শহীদ হয়েছেন। এসএফআই’র চাপে সরকার বাধ্য হয়েছে অবৈধ ছাত্র সংসদ গুলির ঘরে তালা ঝোলাতে।
দেশে নয়া জাতীয় শিক্ষা নীতির মাধ্যমে শিক্ষায় গৈরিকীকরণ করছে বিজেপি। এই দুই সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই, ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে।
এদিন কলেজ স্ট্রিট থেকে এসএফআই স্লোগান তোলে একের দাবি হাজার গলায়। সোমবার কলেজ স্ট্রিটে ছাত্র সমাবেশে একথা বলেছেন এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে।
তিনি বলেন, গোটা দুনিয়ায় দেখানো হচ্ছে বামপন্থার শেষ, আমাদের এর মধ্যে থেকে সম্ভাবনার আলো প্রকাশ করতে হবে। তিনি বলেন, যুক্তিবোধকে শেষ করা হচ্ছে রাজ্যের বুকে। ড্রপ আউট বাড়ছে, দুর্নীতির জন্য শিক্ষকরা কাজ হারাচ্ছেন। লেখা পড়াকে বাঁচানোর জন্য আমাদের লড়াই। প্রাইভেট কলেজ গুলোকে সুবিধা করে দেওয়ার জন্য একমাস ধরে কলেজে ভর্তির পোর্টাল বন্ধ, কেন? কোন উত্তর নেই। ট্যাব দিয়ে খালাস হলে হবে না। ইন্টারনেট পরিষেবা দিতে হবে সরকারকেই। কেরালার বামপন্থী সরকার সেই কাজ করে দেখিয়েছে। সবার জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেটের জন্য রাজ্য জুড়ে গণ স্বাক্ষর হবে।
তিনি আরও বলেন, ভারত চেতনাকে আঘাত করা হচ্ছে। রাজ্যের পাঠ্য বই গুলো থেকে সংবিধানের প্রস্তাবনা তুলে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ছবি রাখা হয়েছে। এই লড়াই লেখা পড়ার গুরুত্ব পুনরুদ্ধার করার।
এদিন সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ময়ূখ বিশ্বাস বলেছেন, ২০১১ সালের আগে থেকে এসএফআই’র ওপর বার বার আক্রমণ হয়েছে। খুন করা হয়েছে। এই রাজ্যে যারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উসকানি দিয়েছে তাদের নেতা করেছে তৃণমূল। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের স্কুলগুলির মিড ডে মিল নেই। পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ছে। গোটা একটা প্রজন্ম রাজ্যের বাইরে। এখানে কাজ নেই, রাজ্যে এখন চলছে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি। টাকা খরচ করে মন্দির তৈরি করা হচ্ছে, আর ক্যানিংয়ে টাকার অভাবে স্কুলে ভর্তি হতে না পেরে একজন ছাত্রী আত্মহত্যা করছে। তিনি বলেন, অনলাইনে শিক্ষার নাম করে পুঁজিপতিদের সুযোগ করে দিয়েছে মোদী সরকার। ভারতকে ঐক্য রাখার কাজ ছাত্র সমাজকে নিয়ে হবে। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাঁচাতে হবে।
সংগঠনের সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক দীপ্সিতা ধর বলেছেন, এই সমাবেশের আগে আমরা রাজ্যের ছাত্র শহীদদের বাড়ি বাড়ি গিয়েছি। তিলক টুডুর বাড়ি গিয়েছি আমরা। সেখানে দেখেছি খালি পায়ে একটা বাচ্চা মিছিলে হাঁটছে। এটা হচ্ছে রাজ্যের পরিস্থিতি। তিনি আরও বলেন, বামফ্রন্ট সরকারের সময় রাজ্যের বুকে অনেক কলেজ তৈরি হয়েছে মানুষের টাকায়। সরকারের হাতে সেই টাকা মানুষ তুলে দিয়েছে, বামপন্থী সরকার কলেজ বানিয়েছে। এখন সেই কলেজের দখল নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। কেশপুরে একজন স্কুল ছাত্রকে খুন করেছিল তৃণমূলের বাহিনী।

Be the first to comment