রোজদিন ডেস্ক : রাজ সরকারের জনপ্রিয় কর্মসূচি দুয়ারে সরকার-(duare sarkar) এর মাধ্যমে আধার কার্ড করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আজ জলপাইগুড়ির প্রশাসনিক বৈঠকে জেলাশাসকদের এই বার্তা দেন তিনি। তাঁর এই সিদ্ধান্তে আধার কার্ডহীন বহু মানুষ উপকৃত হওয়ার আশা।
ভোটমুখি বিহারে এস আই আর করা নিয়ে অতি সক্রিয় নির্বাচন কমিশনকে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে ১২ নম্বর নথি হিসাবে আধার কার্ডকে মান্যতা দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী-সহ বিরোধী পক্ষও।
বিহারের পর এই রাজ্য-সহ সারা দেশেই নির্বাচন কমিশন এস আই আর করবে বলে ইঙ্গিত স্পষ্ট। এই প্রেক্ষিতে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য যাদের আধার কার্ড নেই, তাঁদের তা করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আজ জলপাইগুড়িতে জেলাশাসককে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুয়ারে সরকারের মাধ্যমে এই কাজ করা হোক। ভোটার তালিকায় নাম আছে কিনা তা বারবার খতিয়ে দেখতে তিনি পরামর্শ দেন।
আগামী বছর রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিধান সভা নির্বাচন এর প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে রাজ্য প্রশাসনও।
জলপাইগুড়ির বৈঠকে ভিন রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থা, শিক্ষক নিয়োগ, সমাজ মাধ্যমে তাঁকে অপমান ইত্যাদি নানা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী।
নেপাল পরিস্থিতি নিয়ে কাল প্রায় সারারাতই জেগে ছিলেন তিনি। আজ জলপাইগুড়িতে আসেন। কঠোর পরিশ্রমী মুখ্যমন্ত্রীর চেহারায় অবশ্য কোন ক্লান্তির ছাপ ছিল না।
এইদিনও নাম না করে বিরোধী বিজেপিকে এক হাত নেন তিনি।

শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গ : রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে মুখ না খুললেও বিরোধীদের আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁরা যখনই নিয়োগ করতে যান, পিআইএল করে বাধা দেওয়া হয়। চাকরি দেবে না, চাকরি খাবে। এই সব বাংলা মানে না বলে হুশিয়ারি দেন। আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ইতিমধ্যেই ৩৫ হাজার পদ পূরণ করা হয়েছে, এখন ও ২১ হাজার পদ শুন্য আছে। তা দ্রুত পূরণ করার চেষ্টা হচ্ছে।
চা-বাগানের শ্রমিকদের জন্য জলপাইগুড়িতে ১৩ হাজার বাড়ি তৈরির কথা ও জানান তিনি। বাগান শ্রমিকদের ২০% বোনাস পাওয়ার ক্ষেত্রে যাতে কোন সমস্যা না হয়, মুখ্য সচিবকে দেখতে বলেন। বিরোধী শ্রমিক সংগঠনগুলিকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, তারা যেন শ্রমিকদের প্রাপ্য টাকা নিয়ে না খেলেন!
নাম না করে প্রধানমন্ত্রী কে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, নিজের নামে খেলা, স্টেডিয়াম ইত্যাদি র তিনি পক্ষপাতী না। যা হবে মনীষিদের নামে করতে হবে বলে জানান।

কেন্দ্র আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজ ইত্যাদিতে রাজ্য কে বঞ্চনা করছে বলেও তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী।
পরিযায়ী প্রসঙ্গ: ভিন রাজ্যে বাংলাভাষী দের হেনস্থা, আক্রমণ নিয়েও আজ সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। এমন কি উত্তর বংগের বহু মানুষ কে অসম থেকে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো র বিষয়টিও তুলে ধরেন।
সমাজ মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের যে কটাক্ষ, টিপ্পনী র স্রোত বয়ে যায়, তা নিয়ে অভিমানের সুরে বলেন, তাঁকে অনেক রকম ভাবে অপমান করা হয়। অন্য কেউ হলে হয়ত চলে যেত। কিন্তু রাজ্যের স্বার্থে তিনি তা করবেন না। নাম না করে বিজেপি কে বিঁধে বলেন, তবেই ওরা এখানে গুজরাট করে দেবে!! তিনি কিছুতেই তা হতে দেবেন না। তাঁর বিরুদ্ধে যে যত ই প্রচার করুক , তিনি মাথা উঁচু করেই রাজনীতি করবেন বলে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

Be the first to comment