কৃষ্ণনগরে মুখ্যমন্ত্রীর সভা : উত্তেজনায় শহর, প্রস্তুতিতে ব্যস্ত প্রশাসন

Spread the love

রমিত সরকার, কৃষ্ণনগর, নদীয়া : ১১ ডিসেম্বর কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজের ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা ঘিরে শহরের রাজনৈতিক আবহ এখন বেশ সরগরম। তৃণমূল সুপ্রিমের এই সফরকে ঘিরে শহরের সর্বত্র চোখে পড়ছে প্রচারের জোরদার ছবি— বড় বড় ব্যানার, পতাকা, ফেস্টুন, দেওয়ালজুড়ে পোস্টার আর লাউডস্পিকারে প্রচারের গান। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সভা শুধু শহরেই নয়, আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার ভোট– সমীকরণেও বড় ভূমিকা ফেলতে পারে।

গভর্নমেন্ট কলেজ মাঠে চলছে সভামঞ্চ তৈরির তোড়জোড়। কাঠামো, ছাউনি, আলো, সাউন্ড সিস্টেম—সব ক্ষেত্রেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রতিদিনই প্রশাসন এবং তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতিনিধিরা সভাস্থল পরিদর্শন করছেন। নিরাপত্তা বলয়ে কোনও ফাঁক রাখতে চান না কেউ। ঠিক কোথায় বসবেন বিশিষ্ট অতিথিরা, কোন রাস্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রবেশ, জনসমাগমের কোনো সম্ভাব্য চাপ সামলানোর ব্যবস্থা—সবই আলাদা করে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গত ১৯ তারিখে দক্ষিণবঙ্গের এডিজি এসে সভাস্থল ঘুরে দেখেন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে পুলিশের অতিরিক্ত মোতায়েন থাকবে বলেও সূত্রের খবর। সভার দিন সিসিটিভি নজরদারি এবং নিরাপত্তা রুটে বিশেষ নজর থাকবে।

এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট— ২৬ সালের বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে এই জনসভা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তৃণমূল শিবির আশা করছে, মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণেই আসন্ন ভোটের মূল স্লোগান বা দিশা স্পষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত, সামাজিক প্রকল্পে তৃণমূল সরকারের অবস্থান, বিরোধীদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বার্তা—সব মিলিয়ে বক্তৃতা নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।

জনসভা উপলক্ষ্যে শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যেও সরগরম ভাব। দোকানপাট ঘিরে সাধারণ মানুষের আলোচনা এখন একটাই— মুখ্যমন্ত্রী কী বলবেন। পরিবহণ পরিষেবায়ও সেই প্রস্তুতি। সভার দিন কৃষ্ণনগরের বিভিন্ন দিক থেকে অতিরিক্ত যান চলাচলের সম্ভাবনা রয়েছে। আশেপাশের ব্লক থেকেও বড় সংখ্যায় লোকসভায় যোগ দিতে লোকজন আসতে পারেন বলে আন্দাজ।

শহরের রাজনৈতিক মহল বলছে, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় কৃষ্ণনগর ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রেই রয়েছে। তার ওপর তৃণমূলের বড় সভা— দুই মিলিয়ে এবারের জনসভাকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। অনেকের মতে, মুখ্যমন্ত্রী যদি নতুন কোনও ঘোষণা করেন বা ভোটের রণকৌশল নিয়ে ইঙ্গিত দেন, তাহলে এই সভার গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে ১১ ডিসেম্বরের দিনটা এখন কৃষ্ণনগরবাসীর ক্যালেন্ডারে লাল দাগেই চিহ্নিত। মাঠ প্রস্তুত, প্রশাসন প্রস্তুত, নেতারাও প্রস্তুত— এখন অপেক্ষা শুধু মঞ্চে উঠে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*