রোজদিন ডেস্ক: কোন জাদুকাঠিতে ১ কোটি ৩৬ লক্ষকে ডাকা হল শুনানিতে? ৩১ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে গিয়ে এর হিসেব চাইবে তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এদিন বলেন, বিজেপির নির্দেশে অনেক বেনিয়ম হয়েছে, এবার জবাবদিহি করতে হবে কমিশনকে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে যাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে থাকবেন দলীয় নেতারা। তাঁর কথায়, ওদের যদি কিছু লুকানোর না থাকে তো ৩১ ডিসেম্বর দুপুর ১২টায় আমাদের সঙ্গে ইসি’র বৈঠকের লাইভ সম্প্রচার করা হোক। এরপর দিল্লিতে আন্দোলন হবে। যত ক্ষমতা আছে প্রয়োগ করুন। এছাড়াও শুনানিতে যাদের নাম তাদের তালিকা প্রকাশেরও দাবি জানান তিনি।
শনিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে কমিশন ও বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, এরা হোয়াটসঅ্যাপে সব রিলিজ করে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নাম করে তথ্যের গরমিল দোহাই দিয়ে ১.৩৬ কোটি ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কী জাদুকাঠি আছে কমিশনের কাছে, দুই মাসে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যা করতে হিমশিম খেলেন বিএলওরা, তারা একদিনে সব বলে দিল। কোন সফটওয়ার ব্যবহার করা হল? এত যোগ্য যখন কমিশন তখন ইউপি, ছত্তিশগড়ে কেন দিন বাড়াতে হল? কমিশন কার ভয়ে লুকাচ্ছে? কার অঙ্গুলিহেলনে চলছে, এর জবাব চাই আমরা। হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, এর সমুচিত জবাব না পেলে নির্বাচন কমিশনের দফতর ঘেরাও করবে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর তোলেন সীমা খান্নার প্রসঙ্গ। বলেন, কে এই সীমা খান্না? কার অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছেন তিনি? সব চ্যাটের স্ক্রিন শট আছে আমাদের কাছে। সুপ্রিম কোর্টে আমরা সব জমা দেবো।
এদিন বাংলায় এসআইআর-এর তথ্য পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, এসআইআরে যে সমস্যা হতে পারে তা আগে থেকেই আমরা বলেছি। পরিকল্পনাহীন সব বিষয়কে গায়ের জোরে করতে যাওয়ার প্রতিফলন আমরা দেখতে পেলাম। একের পর এক মানুষের প্রাণ গিয়েছে। ৫১ জন আত্মঘাতী হয়েছেন, এর মধ্যে ৪৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ৫ জন বিএলও সুইসাইড করেছেন, ২৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কমিশনে একটা প্রতিনিধিদল গত নভেম্বর গিয়েছিল। একটা প্রশ্নেরও সদুত্তর আমরা পাইনি। কমিশন বলেছিল, সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিল নাকি তাঁরা। আমি চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, আপনারা সব সামনে আনুন। জ্ঞানেশবাবু-ভ্যানিশবাবুর থেকে উত্তর পাইনি আমরা। আমাদের কাছে ডিজিটাল প্রমাণ আছে।
এরপর তিনি বঞ্চনার কথা টানেন। বলেন, মোদি ও বিজেপি সরকার এমন জায়গায় দেশকে নিয়ে গিয়েছে যে ভোটার বেছে নিচ্ছে সরকার। ড্রাফট ইলেক্টোরাল রোল অনুযায়ী ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। তামিলনাড়ু ১২.৫৭%, গুজরাতে ৯.৯৫%, ছত্তিশগড়ে ৮.৭৬%, কেরলে ৬.৬৫%, বাংলায় ৫.৭৯% ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের হার। বাংলায় সবথেকে কম নাম বাদ গিয়েছে। তাও বাংলায় জোর জবরদস্তি এসআইআর করা হল। কারণ বিজেপি নেতারা বলেছে এক কোটি বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা আছে এই রাজ্যে। আমাদের প্রশ্ন, ৫৮ লক্ষের মধ্যে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা কত সেটা জানাক কমিশন। দ্বিতীয় প্রশ্ন, যেসব রাজ্য দিয়ে রোহিঙ্গারা প্রবেশ করতে পারে সেখান কেন এসআইআর হল না? তৃতীয় প্রশ্ন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাংলায় সীমানা যেমন আছে তেমনি অন্য রাজ্যেও আছে, সেখানে কেন এসআইআর হল না? আসলে বাঙালিকে হেনস্থা। চতুর্থ প্রশ্ন, বাংলায় কম ডিলিটেশন, ইউপিতে ডিলিটেশন বেশি। তাহলে ইউপি, গুজরাতে কেন মাইক্রো অবজার্ভার রাখা হল না? বাংলার জন্য আলাদা নিয়ম কেন?

Be the first to comment