রোজদিন ডেস্ক : ডাক পেয়েছিলেন এসআইআর শুনানিতে। সেখানে লাইনে দাঁড়িয়েই খবর পেলেন বাড়িতে থাকা বাবা আক্রান্ত হয়েছেন হৃদরোগে। তড়িঘড়ি শুনানি শেষ করে ফিরে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা হল না। সন্ধ্যায় মৃত্যু হল ওই প্রৌঢ়ের। বাবার মৃত্যুর পরই সরাসরি এসআইআরের দিকেই আঙুল তুললেন মৃতের ছেলেমেয়েরা। বললেন, আমাদের ডাকার পর থেকেই কী হবে আতঙ্কে ভুগছিলেন বাবা। আর তার ফলেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। হাওড়ার পাঁচলার বিকিহাকোলা গ্রামের ঘটনা। মৃতের নাম আজাদ আলি শেখ (৬৪)। আজাদ আলির ৬ ছেলেমেয়ে। এসআইআর শুনানির জন্যে ছেলেমেয়েকে নোটিস ধরিয়েছিল কমিশন। অভিযোগ, তারপর থেকেই আতঙ্কে ভুগছিলেন। তার জেরেই আজাদ আলি শেখের মৃত্যু বলে দাবি পরিবারের। পরিবার সূত্রে খবর, আজাদ আলি শেখের স্ত্রী ছাড়াও ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে। দিন কয়েক আগে স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ের নামে শুনানির নোটিস আসে। বৃহস্পতিবার তিন ছেলে ও দুই মেয়ের শুনানি ছিল। এদিন ছেলেমেয়েরা শুনানি কেন্দ্রে চলে যাওয়ার পর। আজাদ আলি শেখ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। মৃতের ছেলে আনসারুল শেখ বলেন, আমাদের নোটিস আসার পরে থেকেই বাবা আতঙ্কে ভুগছিলেন। নানা দুশ্চিন্তা বাবার মাথায় ছিল। নাওয়া, খাওয়া প্রায় ভুলে গিয়েছিলেন। তারপর আজ এই মর্মান্তিক ঘটনা। খবর পেয়ে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন পাঁচলার তৃণমূল বিধায়ক গুলশন মল্লিক। তিনি বলেন, আমরা প্রথম দিন থেকেই বলছি এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। মানুষের মৃত্যু ঘটছে। যেটা আজ পাঁচলায় হলো। এই মৃত্যুর জন্য ওই পরিবার সরাসরি নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করেছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় শেখ আজাদের নামে ভুল ছিল। পরিবারের দাবি, তাঁর সন্তানের সংখ্যা ৬ জনের বেশি বলেই তাঁদের শুনানিতে ডাকা হয়েছিল।”

Be the first to comment