রাহুল গান্ধীর মন্তব্য নিয়ে উত্তাপ লোকসভায়

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বক্তব্য রাখতে উঠেছিলেন লোকসভার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী। প্রাক্তন সেনা প্রধান নারাভানের একটি লেখা থেকে কিছু পড়তে গেলেই তীব্র বাধা ধেয়ে আসে সরকারি পক্ষ থেকে। যা নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ তপ্ত হয় সংসদ। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা জানিয়ে দেন, সভার কাজের সঙ্গে সম্পর্ক নেই, এমন কিছু বিষয়ের ওপর কোন বই বা কাগজ থেকে পড়া যাবে না৷
এই সব নিয়ে উভয় পক্ষে বাদানুবাদ চলে।
রাহুল গান্ধী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখতে উঠে প্রথমেই বলেন, তিনি পূর্ববর্তী বক্তা বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য কংগ্রেসের দেশপ্রেম নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছেন তা নিয়ে কিছু বলতে চান। এরপরই তিনি প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের লেখা থেকে কিছু পড়তে শুরু করা মাত্র প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং তীব্র আপত্তি জানিয়ে এই বইটি প্রকাশিত হয়েছে কিনা জানতে চান।
রাহুল গান্ধী জানান, একটি ম্যাগাজিন থেকে এই লেখা তিনি পড়ছেন। অধ্যক্ষ ওম বিড়লা তা পড়তে অনুমতি দেননি। পরিষদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেন, লোকসভার বিরোধী নেতা অধ্যক্ষর কথা অমান্য করে ভুল নজির স্থাপন করছেন।
রাহুল গান্ধী সভাকে বিভ্রান্ত করছেন বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং তোপ দাগেন।
সমাজবাদী সাংসদ অখিলেশ যাদব রাহুল গান্ধীকে সমর্থন করে তাঁকে বক্তব্য রাখার জন্য অধ্যক্ষকে অনুমতি দিতে আর্জি জানান।
এই সব নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের তুমুল বাদানুবাদে অধ্যক্ষ ওম বিড়লা দুপুর তিনটে অবধি সভার কাজ মুলতবি করে দেন।
সূত্রের খবর, প্রাক্তন সেনা প্রধান নারাভানের “ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি ” বইটি ২০২৪ সালে প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।

যদিও এর আগেই বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা বইটির একাধিক অংশ প্রকাশ করে দেয়।
২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সাল অবধি দেশের সেনা প্রধান ছিলেন নারাভান। সম্প্রতি একটি ম্যাগাজিনে এই বই এর কিছু অংশ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ২০১৭ সালে ডোকলামে ভারত ও চিনের সেনারা যখন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, তখন চিনের সাঁজোয়া গাড়ি ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছিল। রাহুল গান্ধী আজ এই অংশটি পড়া শুরু করতে বিতর্ক বাধে। রাজনাথ সিং, অমিত শাহ প্রমুখ তাঁকে উদ্ধৃতি দিতে বারণ করেন। অধ্যক্ষ ওম বিড়লা জানিয়ে দেন, ধন্যবাদ জ্ঞাপক বক্তব্যই শুধু রাখতে পারবেন রাহুল গান্ধী।
উভয় পক্ষের বিতর্ক চললেও সভা কক্ষে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*