রোজদিন ডেস্ক : রাজ্য সফরে আসা রাষ্ট্রপতির বক্তব্য, ও তার পালটা মুখ্যমন্ত্রী র মন্তব্য নিয়ে ঝড় পৌঁছে গেল জাতীয় রাজনীতির আঙিনায়!! রাজ্য সরকার (পড়ুন মুখ্যমন্ত্রী!) সব সীমা লঙ্ঘন করেছে বলে সমাজমাধ্যমে তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় উঠেছে।
আজ শিলিগুড়ির এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সঙ্গে এখানে আদিবাসী দের অনুন্নয়ন নিয়ে ক্ষোভ ও ব্যক্ত করেন। এর পালটা ধর্মতলার ধর্ণা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ উগরে বলেন, উনি যে আসবেন তিনি জানতেন না। মাননীয় রাষ্ট্রপতিকে তাঁরা সম্মান করেন জানিয়েও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কিন্তু বলতে লজ্জা লাগে তাঁকে দিয়েও রাজনীতি করানো হচ্ছে। ” রাষ্ট্র পতি বিজেপি ফাঁদে পড়ে গেছেন। এখানেই না থেমে দৃশ্যত ক্রুদ্ধ মুখ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে নিশানা করে বলেন, এখানে আদিবাসীদের উন্নয়ন হয়নি, উনি কিভাবে তা বলেন? যখন মণিপুর, রাজস্থান ইত্যাদি জায়গায় আদিবাসীদের, দলিতদের হেনস্থা হয়, তখন উনি কোথায় থাকেন? এসআইআরের নামে কত আদিবাসীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে, উনি খবর রাখেন? তীব্র শ্লেষের সঙ্গে বলেন, “বছরে একবার এলে অবশ্যই রিসিভ করবো। কিন্তু বছরে পঞ্চাশ বার কেউ এলে আমার কি অত সময় আছে? ”
তাঁর এই সব মন্তব্যর প্রেক্ষিতে আজ সন্ধ্যায় সমাজমাধ্যমে সরব হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বলেন, ” রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির উর্ধ্বে, এই পদের মর্যাদা সর্বদা রক্ষা করা উচিত। আশা করা যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের
শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।”
নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে বলেন,” এটি লজ্জাজনক ও অভূতপূর্ব। গণতন্ত্র ও জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষ জন সকলেই মর্মাহত।। জনজাতি সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে।”
রাজ্য সরকারকে বিঁধে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য তাদের প্রশাসনই দায়ী। এটিও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সাঁওতাল সংস্কৃতির মত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এত হাল্কা ভাবে দেখছে! ”
বাংলায় লেখা প্রধানমন্ত্রীর এই পোস্ট নিয়ে রাজনীতির পারদ এখন রীতিমত উর্ধ্বগামী বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।

Be the first to comment