রোজদিন ডেস্ক :
উপার্জন আর ক্ষমতার আতসকাঁচ দিয়ে যারা মানুষকে দেখে, তাদের মত অশিক্ষিত এই পৃথিবীতে নেই। কিশোর পুত্র সহজ কে লিখেছিলেন সদ্য অকালে চলে যাওয়া অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি। এমন জীবন দর্শনে পুত্রকে যথার্থ শিক্ষিত করে তুলতে চেয়েছিলেন প্রগতিশীল ভাবনা,চেতনার এই মানুষটি। সমাজ মাধ্যমে তাঁর এই শেষ চিঠি পড়ে চোখ ভিজে যায়নি, এমন মানুষ সম্ভবত বিরল।
শুধু অভিনয় নয়, অসাধারণ লিখতে পারতেন তিনি। পুত্রকে লেখা চিঠির প্রতি ছত্রে তা মূর্ত হয়ে উঠেছে। সহজ কে বলেছেন, সে যদি কখনো এই অভিনয় জগতে আসতে চায়, তবে যেন সবাইকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেয়। যিনি চা দিতে আসছেন, তাঁকেও। হয়ত তিনি তার মা বাবাকেও (প্রিয়াঙ্কা – রাহুল) চা দিতেন।
স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা ও নিজের রূপোলি জগতে আসা, নিরন্তর সংগ্রামের ছবি খুব সহজভাবে “সহজ”কে জানিয়েছিলেন তিনি। ছোট্ট পুত্রর মনে বপন করতে চেয়েছিলেন যথার্থ মনুষ্যত্ব কাকে বলে তার বীজটুকু।
মা প্রিয়াঙ্কার সংগ্রামের কথা বলে তুলে ধরেছিলেন সব মায়েদের জীবনের ছবি। লিখেছিলেন, ” সন্তানরা মায়ের বুকের ওম টা বুঝতে পারে, পিঠে কত ছুরি বিঁধে আছে তা দেখা যায় না! ”
আরও বলেছিলেন, গন্ডারের চামড়া ধার নিয়ে সেলিব্রিটি হওয়া যায়!!
পুত্রকে দিয়েছিলেন তাঁর ভাগের সব নদী, পাহাড়, জঙ্গল, বই মেলার ধূলো ইত্যাদি। আর দিয়ে গেছেন তাঁর সব থেকে অহঙ্কারের জিনিস, বাংলা ভাষা!!
বড় তাড়াতাড়ি চলে গেলেন এই অনবদ্য তরুণটি। রূপোলি জগতে যাঁর অভাব কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।

Be the first to comment