রোজদিন ডেস্ক : মালদহের কালিয়াচকে বিচারকদের আটকে রেখে অবস্থান, বিক্ষোভের নামে অশান্তি পাকানোর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ঘটনায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই তাঁর খোঁজ চলছিল। অবশেষে বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার সকালে প্রশাসনের তরফে এই খবর জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন মোফাক্কেরুলের নামে বৃহস্পতিবারই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। তারপর থেকে পুলিশ তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেছে। বৃহস্পতিবার মোফাক্কেরুলকে একাধিক বার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। এরমধ্যেই ঘটনার সময় কালিয়াচকের একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মোফাক্কেরুলকে একটি গাড়ির ওপর চড়ে ভাষণ দিতে দেখা যায়। তাঁর ভাষণে ঘন ঘন হাততালি পড়তেও দেখা গিয়েছে।জানা গিয়েছে ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা বছর চল্লিশের মোফাক্কেরুল কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন। পরিবার নিয়ে আপাতত তিনি কলকাতারই বাসিন্দা। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তিনি এআইএমআইএম-এ যোগ দেন। একুশের নির্বাচনে ইটাহারে এমআইএম প্রার্থী হিসাবে লড়াইও করেন।।
কালিয়াচকের ঘটনা নিয়ে শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এডিজি উত্তরবঙ্গ কে জয়রামন বলেন, বিচারকদের আটকে রাখা, রোড ব্লক করা, সব নিয়ে মালদহ জেলায় মোট ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ জন গ্রেফতার হয়েছে। মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূলত তিনিই উস্কানি দিচ্ছিলেন। ভাইরাল ভিডিয়োও পাওয়া গিয়েছে। আজ সকালে ওকে গ্রেফতার করা হয়েছে বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে। ওর সঙ্গে আকরামুল বাগানি নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। সম্ভবত ওরা বেঙ্গালুরু পালানোর চেষ্টা করছিল। ওদের মালদহে আনা হচ্ছে। মোফাক্কেরুল সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, কালিয়াচকের ঘটনায় তিনটি কেসে ওঁর নাম আছে। বাকি জায়গায় অন্য কোনও কেসে জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখব। কোনও বেআইনি কার্যকলাপ সহ্য করা হবে না। কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে। বিচারকদের আটকে রাখা নিয়ে তিনি বলেন, ওখানে অনেক মহিলা ও বাচ্চাও ছিল, সেই কারণে বলপ্রয়োগ করা যায়নি। সেদিন জমায়েতে উসকানি দিয়েছিল মোফাক্কেরুল। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে। এনআইএ তদন্তভার নিচ্ছে, তারা চাইলে ধৃতকে হেফাজতে নিতে পারে।

Be the first to comment