রোজদিন ডেস্ক : ডিলিমিটেশন বিল আর মহিলাদের সংরক্ষণ বিল একসঙ্গে নিয়ে আসতে চাইছে। মহিলাদের এত অসম্মান করো। উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরে দমদমে ব্রাত্য বসুর সমর্থনে দমদম সেন্ট্রাল জেলের ময়দানে জনসভা থেকে মোদি সরকারকে মহিলা বিল নিয়ে খোঁচা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিলকে শিখণ্ডী করে লোকসভার আসন বাড়াতে চাইছে বিজেপি, এমনটাই অভিযোগ করা হয়েছে বিরোধীদের তরফে। জনগণনার আগে আসন পুনর্বিন্যাসের মধ্যে দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির প্রভাব কমিয়ে উত্তর ভারতের আসন বাড়িয়ে নেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য, এমনটাই বলা হচ্ছে। দমদমের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান, মহিলা সংরক্ষণ বিল তাঁরা সমর্থন করবেন। কিন্তু তার সঙ্গে অন্য কোনও বিল আনা হলে সমর্থন করা হবে না। সংসদে তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি বিল পাশ করাতে চাইছে কেন্দ্র। প্রথমটি লোকসভা এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের জন্য ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। লোকসভার সাংসদ সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার বিষয়টি এর আওতায় পড়ে। দ্বিতীয়টি লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিল এবং তৃতীয়টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। এই নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের এখানে পুরসভা, পঞ্চায়েতে ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ রয়েছে। আমাদের ৩৭ শতাংশ মহিলা লোকসভায় নির্বাচিত। মহিলা বিল আমরা সমর্থন করব। কিন্তু তার সঙ্গে অন্য কিছু আনতে যেয়ো না। ডিলিমিটেশনকে সমর্থন নয়। দেশটাকে আপনারা টুকরো টুকরো করতে চাইছেন। বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনাও রয়েছে। এই ডিলিমিটেশন আমরা মানি না।
এরপরেই তিনি বলেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব। কিন্তু এটা তো অত্যাচারের উৎসব চলছে। কাল যখন ক্ষমতায় থাকবে না, এই হানাগুলো যখন তোমাদের বাড়িতে হবে, তখন সামলে নিও। এজেন্সির অপব্যবহার করছে কেন্দ্রীয় সরকার। আমি সাতবার সাংসদ হয়েছি। এমন জীবনে কখনও দেখিনি। ভোটের আগে মানুষের নাম কেটেছে। কোনও ধর্ম-বর্ণ না দেখে আমি সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলাম। অন্য কোনও রাজ্যে যা হয়নি, এখানে তা হয়েছে। শুধু বাংলার ক্ষেত্রে তথ্যগত অসঙ্গতি দেখিয়ে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন এজেন্সিকে দিয়ে হেনস্থা করছে। দমদমে আমার গাড়ির সামনে গটগট করে চলে এসেছিলেন জওয়ানেরা। আমি বললাম, এসো এসো, কী তল্লাশি করার করো। আমার কোনও অসুবিধা নেই। ইডি, সিবিআই, আইটি সবাই তল্লাশি চালাচ্ছে। বিজেপির সরাসরি লড়াইয়ের হিম্মত নেই? ভোটে লড়া তো সাংবিধানিক অধিকার। আটকে রেখে তার অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। আমি আইনি পদক্ষেপ করব যতটা সম্ভব।

Be the first to comment