বিজেপিতে কঠোর, তৃণমূলকেও ছেড়ে কথা নয়, ভোটমুখী বাংলায় সুপ্রিয়া

Spread the love

পিয়ালী : 

প্রথম দফা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনেত বাংলায়। সুপ্রিয়া আগে সাংবাদিক ছিলেন । এখন অবশ্য কংগ্রেস রাজনীতি তাঁর ধ্যান জ্ঞান। দিল্লি থেকে কলকাতায় এসেছেন ২০২৬ এর নির্বাচনের প্রাক্কালে। আজ ২২ এপ্রিল বুধবার, কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন তিনি।

তাঁর প্রারম্ভিক ভাষণে সুপ্রিয়া বিজেপিকে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তুলোধোনা করেন। তিনি বলেন বিজেপি তার নিজের রাজ্যগুলি ছাড়া অর্থাৎ যেখানে ডাবল ইঞ্জিন সরকার নেই , সেখানে বিমাতৃসুলভ আচরণ করে। বাংলাও তার ব্যতিক্রম নয়।

এসআইআর নিয়ে ইলেকশন কমিশন তথা বিজেপিকে এক হাত নেন সুপ্রিয়া। তিনি বলেন বাংলা হল নবজাগরণের ভূমি। এখানে বিজেপির অঙ্গুলি হেলনে জ্ঞানেশ কুমার ৯০ লক্ষ মানুষের ভোট কেটে দিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে রীতিমত কটাক্ষ করেন সুপ্রিয়া। তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী কিভাবে দিদি ও দিদি বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যঙ্গ করেন, এটা বাংলার সংস্কৃতি বা রুচির বিরোধী। সম্প্রতি নেতাজির বক্তব্যকে স্বামী বিবেকানন্দের বাণী বলে উল্লেখ করায়, যোগী আদিত্যনাথ এর ভুল নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।

তবে বিজেপির কঠোর সমালোচনা করলেও তৃণমূলকেও কিন্তু ছেড়ে কথা বলেননি সুপ্রিয়া। তিনি বলেন এক হাতে তালি বাজে না। তৃণমূল সরকার খুবই হতাশা ব্যঞ্জক কাজ করেছে। তিনি তৃণমূলের দুর্নীতির কথা তুলে ধরে বলেন সারদা রোজভ্যালি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি পনেরো বছরে বাংলার মাটিতে শিকড় গেড়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সন্ত্রাস হয় তার ও সমালোচনা করেন তিনি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীদের উপর অত্যাচার ইত্যাদি বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরে তিনি তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন।

২৩ এপ্রিল রাহুল গান্ধীর জনসভার অনুমতি না মেলায়, তিনি কমিশন এবং রাজ্য সরকার উভয়কেই দোষারোপ করেন।

বাংলায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কড়াকড়ি, বিধিনিষেধ কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া প্রহরাকে তিনি নির্বাচন কমিশনের তুঘলকি ফরমান বলে উল্লেখ করেন।

মহিলা বিল নিয়ে কংগ্রেসের নীতি অনুযায়ী সুপ্রিয়াও বিজেপিকে আঘাত নেন। কেন্দ্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশ্যের ভাষণ দূরদর্শন নাকি মোদী দর্শনে দেখানো হলো। ২৯ মিনিটের ভাষণে ৫৮ বার কংগ্রেসের নাম নেওয়া হল। যদি ৩৩% মহিলা সংরক্ষণ করতেই হয় তাহলে ৫৪৩ আসনে কেন সংরক্ষণ করা হলো না। বিজেপির উদ্দেশ্যে সুপ্রিয়ার বক্তব্য কংগ্রেসের বারবার নাম উল্লেখ ওনাদের ভয়ের পরিচয়বাহী ।সুপ্রিয়া শেষ করেন এই বলে যে ইয়ে ডর আচ্ছে হ্যায়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*