রোজদিন ডেস্ক :
বাংলা হল ভারতবর্ষের মুকুটে জ্বল জ্বল করা মরকত মণি যাকে গেরুয়া রঙে চোবানোর প্রয়াস করছে বিজেপি। যতক্ষণ না তা হয় বিজেপির শান্তি নেই। প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি ব্রাত্য বসু বলেন একথা। পাশাপাশি ব্রাত্য বলেন বাংলা তার গরিমা সম্পর্কে শ্লাঘা সম্পর্কে সচেতন। ২০২১ বা ২৪ সালের মতো বাংলা আবার প্রমাণ করবে, যতই করো হামলা/ আবার জিতবে বাংলা।
ব্রাত্য বলেন, দেশের একমাত্র বিরোধী মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে দিল্লির আধিপত্যবাদী মনোভাব যেভাবে দাঁত-নখ বের করে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তাতে একটা প্রশ্নই উঠছে— আগামী দিনে বাংলায় যে সরকার হবে সেটা বাংলার মানুষ ঠিক করবে নাকি দিল্লি থেকে ঠিক করে দেওয়া হবে, এটাই পরিষ্কার হচ্ছে না। শুধুমাত্র বাংলার ক্ষমতা দখল করার জন্য আমি জানি না, এই রকম একটা ভয়ঙ্কর প্রক্রিয়া স্বাধীনতা-উত্তর পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কখনও দেখেছেন কিনা। এই ভাষাতেই বিজেপিকে নিশানা করলেন তৃণমূল নেতা ও রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বুধবার বিকেলে কলকাতা প্রেস ক্লাবে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ব্রাত্য আরও বলেন, বিজেপি যাকে ‘কালা অধ্যায়’ বলে সেই জরুরি অবস্থার সময়েও এই রকম সর্বনাশা, মনুষ্যত্ব অবমাননাকারী ও মর্মঘাতী নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গ দেখেছে বলে তো মনে হয় না। এসআইআর করে প্রায় ৯১ লক্ষ লোকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন নিজের দেশের মাটিতে লাইনে দাঁড়িয়ে এই লক্ষ লক্ষ মানুষকে নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে। এর জন্য কম করে দু-শো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় দেড় কোটি ভোটারকে ভয় দেখানো হচ্ছে এই বলে যে, আপনাদের নাম বাদ চলে যাবে। এত কথা বলার পর একজনও রোহিঙ্গা, একজনও অনুপ্রবেশকারী, বিজেপির ভাষায় ‘ঘুসপেটিয়া’ খুঁজে বের করা গেল না! দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এতবড় একটা বিরাট ভোটারমণ্ডলী বা নির্বাচকমণ্ডলীর সঙ্গে যা করা হল তাকে এক কথায় বলা যায় ভোটার কনস্টিটিউশনাল জেনোসাইড (সাংবিধানিক গণহত্যা) বা ভোটারদের মুছে ফেলা। এই রকম একটা ভয়ঙ্কর প্রক্রিয়া কখনও দেখা যায়নি। আর এটা করা হল শুধুমাত্র একটি দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য যা নজিরবিহীন ঘটনা।
রাজ্যজুড়ে পরিযায়ী শ্রমিকরা আসছেন নির্বাচন নামক উৎসবে অংশগ্রহণ করতে। হাওড়া, সাঁতরাগাছি শিয়ালদা স্টেশনে রীতিমতো ভিড়। ব্রাত্য বাবুকে প্রশ্ন করা হয় এদের ভোট কাদের পক্ষে যাবে। ব্রাত্য বসুর স্পষ্ট জবাব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিযায়ী শ্রমিকদের দুঃখ দুর্দশা বোঝেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ান। তাই এই ভোট তৃণমূলের পক্ষে যাবে বলেই তাঁর ধারণা।

Be the first to comment