রোজদিন ডেস্ক : ভেঙে গিয়েছে তৃণমূলের পরিষদীয় দল। ৫৮ জন বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুইপ অমান্য করে বিধানসভায় নব তৃণমূল ব্লক গঠন করে প্রধান বিরোধী দলের দাবি জানিয়েছে। এই আবহে এবার মুখ খুলে সরাসরি নেত্রীর দিকেই আঙুল তুললেন দলের রাজ্যসভা সাংসদ তথা প্রাক্তন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় বুধবার রাতে এক দীর্ঘ পোস্ট করেন তিনি। সেখানে এই পরিস্থিতির জন্য নেত্রীকেই দায়ী করেছেন তিনি। তবে সবটাই তার ব্যক্তিগত মত বলেই দাবি সাংসদের। তিনি লিখেছেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ করেননি। সেই কারণেই দলের নেতা, কর্মীদের একাংশ দুর্নীতি ও সাধারণ মানুষের অর্থ তছরুপের সুযোগ পেয়েছিলেন। যদিও একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই মতামত সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত এবং দলের অবস্থানের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। পোস্টে দলত্যাগী নেতাদের নিয়ে লিখেছেন, কোনও রাজনৈতিক দলের টিকিট, প্রতীক ও নেতৃত্বের ভিত্তিতে নির্বাচনে জিতে আসার পর যদি কেউ সেই দল ছেড়ে যান, তাহলে তাঁর সাংসদ বা বিধায়ক পদও ছেড়ে দেওয়া উচিত। আপনি নিজের দলের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে পারেন, আমিও অতীতে তা করেছি। কিন্তু সেই অবস্থানকে সম্মান জানাতে হলে সাংসদ বা বিধায়ক পদ থেকেও সরে দাঁড়ানো উচিত। বিজেপি ছাড়ার পর তিনি যে সাংসদপদ ত্যাগ করেছিলেন, এ প্রসঙ্গে তাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের এই গায়ক-সাংসদ। তবে দলের মধ্যে দুর্নীতি প্রসঙ্গে কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। লিখেছন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি বড় ভুল করেছিলেন। ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই যারা দুর্নীতি, জনসাধারণের অর্থ আত্মসাৎ বা বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে শুরুতেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি বলেই পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। সেই সময়ের বহু বিতর্কিত ব্যক্তি বর্তমানে তথাকথিত ‘৬০’-এর অংশ হয়ে গিয়েছেন। যদিও ‘৬০’ বলতে তিনি ঠিক কাদের বোঝাতে চেয়েছেন, তা পোস্টে স্পষ্ট করেননি। একই সঙ্গে নাম না করে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রসঙ্গ টেনে বাবুল তাকে সাপ বলেছেন। পোস্টে লেখেন, আমি কখনও ভাবিনি যে একজন সাপ মানুষের ছদ্মবেশে আমাদের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

Be the first to comment