কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্য পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য পুলিশ এবং আইপিএস ক্যাডারের বহু উচ্চপদস্থ আধিকারিককে নতুন দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বেশ কয়েকজন আধিকারিক পদোন্নতিও পেয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা, কমিশনারেট এবং পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষস্তরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটতে চলেছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেই এই বদলি ও পদোন্নতির নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সরকারের দাবি, প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং জনসেবামূলক কাজের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার, কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডিআইজি এবং আইজি পদমর্যাদার একাধিক আধিকারিকের দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা বেশ কয়েকজন আধিকারিককে উচ্চতর পদে উন্নীত করে নতুন দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, বৃহৎ আকারের এই রদবদলের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধি করা এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে অভিজ্ঞ অফিসারদের কাজে লাগানো। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সংবেদনশীল জেলা ও শহরাঞ্চলে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ওপর বিশেষ নজর থাকবে বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির একাংশের অভিযোগ, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের আড়ালে রাজনৈতিক বিবেচনাও কাজ করতে পারে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। শাসক শিবিরের দাবি, সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং কর্মদক্ষতার মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত মহলের মতে, এত বড় সংখ্যক আধিকারিকের একযোগে বদলি ও পদোন্নতির ফলে প্রশাসনিক কাঠামোয় নতুন কর্মসংস্কৃতি ও দায়িত্ববণ্টনের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এই পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব কতটা পড়ে, তা নির্ভর করবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কাজের ওপর।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা তাঁদের নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এরপরই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও শহরে পুলিশ প্রশাসনের নতুন কাঠামো কার্যকর হতে শুরু করবে।
প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই রদবদল রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক পরিচালনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ফলে আগামী দিনে এই সিদ্ধান্তের ফলাফল কী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

Be the first to comment