রোজদিন ডেস্ক : বিকেল সওয়া চারটে থেকে সন্ধ্যা ছয়টা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় থেকে বেরোলেন সিআইডি আধিকারিকরা। একই সময় সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির ক্যামাক স্ট্রীটের অফিসে তল্লাশি করে বেরোলেন আর একটি দল। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির প্রাঙ্গণে পৌঁছে গেল সিআইডি। কলকাতায় যখন এই সব নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে, দিল্লিতে তখন কংগ্রেস শীর্ষ নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত মমতা ব্যানার্জি।
আজ দুপুর তিনটে থেকে সন্ধ্যা ছ’টা। সারা কলকাতা সহ রাজ্যের দৃষ্টি তখন টিভি-র পর্দায়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রীটের বাসভবনের সুদৃশ্য ফটকের বাইরে তখন মহিলা-সহ সিআইডি আধিকারিকদের বিশাল দল। বিধানসভায় বিধায়কদের সই কান্ডের তদন্তে এসেছেন তাঁরা। তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় তল্লাশি করবেন। দীর্ঘ প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিটের টানাপোড়েনের পর বিকেল সওয়া চারটে নাগাদ তাঁরা ভিতরে প্রবেশ করেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির প্রাঙ্গণে থাকা দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালান।
একই সময় ক্যামাক স্ট্রীটে সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির অফিসেও সিআইডি আধিকারিকরা তল্লাশি চালান। উভয় জায়গায় প্রায় ২ ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে কিছু নথিপত্র নিয়ে তাঁরা চলে যান। কোন মন্তব্য করেননি।
এই ঘটনা নিয়ে ৩০ বি হরিণ চ্যাটার্জি স্ট্রীটে একের পর এক নাটকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
তল্লাশি চলাকালীন সেখানে একে একে যান কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র, কল্যাণ ব্যানার্জি।
সকলেই ক্ষুব্ধ। দলনেত্রীকে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে সরব হন।
সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি সুর চড়িয়ে সরাসরি আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। তাঁকে প্রতিহিংসাপরায়ণ, বিশ্বাসঘাতক ইত্যাদি বাছা বাছা বিশেষণে বিদ্ধ করেন। দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই হেনস্থা। বেশ কিছুক্ষণ উচ্চ স্বরে এই সব বলে তিনি চলে যান। পরে চলে যান কুণাল ঘোষ, মদন মিত্রও।

Be the first to comment