রাজ্যে স্মার্ট মিটার বসানোর উদ্যোগ 

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : 

ক্ষমতায় এসে এবার রাজ্যে বিদ্যুতের স্মার্ট মিটার বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই মর্মে রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ এলাকায় যে সব সরকারি কর্মী থাকেন, তাঁদের বাড়ি, সরকারি সব কার্যালয়ে এই মিটার বসানোর জন্য মুখ্য সচিব নির্দেশ জারি করেছেন। সব জেলাশাসক, ডি জি, কলকাতা পুলিশের কমিশনার, সব সরকারি দফতরের প্রধান, ডিভিশনাল কমিশনার দের এই বার্তা পাঠানো হয়েছে।

মুখ্যসচিব জানিয়েছেন রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের আওতায় থাকা ৫৩৪ টি গ্রাহক সেবা কেন্দ্রর মধ্যে ১০৩টিতে প্রাথমিকভাবে এই স্মার্ট মিটার বসানো হবে। এই সব এলাকার পরিস্থিতি গুরুতর, বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে আয়ের নিরিখে সরকারের মাথা ব্যথার কারণ বলে জানা যায়। কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সংস্কার, আয় বৃদ্ধির জন্য এই স্মার্ট মিটার বসানো হচ্ছে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য।

উল্লেখ্য, আগেও কেন্দ্রের নির্দেশে প্রাক্তন সরকারের আমলে কিছু ক্ষেত্রে এই স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু হয়েছিল। মূলত বিরোধী পক্ষের প্রবল আন্দোলনের জেরে তা স্থগিত হয়ে যায়। এমনকি তদানীন্তন বিরোধী নেতা, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এই স্মার্ট মিটারের বিরোধী ছিলেন।

সূত্রের খবর, এই মিটারের আয়ুস্কাল, খরচ ইত্যাদি বর্তমান হারের থেকে অনেক গুণ বেশি। যা আমজনতার ওপর বিপুল বোঝা হবে বলে বিভিন্ন সংগঠন মনে করে।

রাজ্যের বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতির (অ্যাবেকা) নেতা সুব্রত বিশ্বাস ইতিমধ্যে স্মার্ট মিটার বসানোর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। এর ফলে সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ওপর বিপুল বোঝা চাপবে বলে জানান৷

মুখ্যসচিবের নির্দেশিকায় এই স্মার্ট মিটারের বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকরা পোস্ট পেড ও প্রিপেড, দু ভাবেই দিতে পারেন বলে জানানো হয়েছে। যদিও আগামী দিনে তা প্রিপেড হওয়ারই কথা।

আপাতত রাজ্য ২ কোটি গ্রাহকের জন্য স্মার্ট মিটার বসানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সিটু সহ সব বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন এর তীব্র বিরোধী। ফলত এর বিরুদ্ধে রাজ্যে আন্দোলন গড়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করেন। তবে তা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সংশয় আছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*