রোজদিন ডেস্ক :
রাজ্যে নারী নির্যাতন হলে কোন রেয়াত নয়। যার যা ইচ্ছা করে নেবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ বিধানসভায় পুলিশকে নিদান দেন। যা প্রোটেকশন দেওয়ার তিনি দেবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন।
বিধানসভায় আজ স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট বিতর্কের জবাবি ভাষণ দিয়ে এইভাবেই পুলিশকে ফ্রি হ্যান্ড দেন মুখ্যমন্ত্রী।
সম্প্রতি বারুইপুরে বালিকাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ, হত্যার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মন্ডল পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে নিহত হন, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ওঠে। আজ মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে পুলিশকে পরোক্ষ সমর্থন দেওয়া হোল বলে তথ্যভিজ্ঞ মহল মনে করেন।
রাজ্যে নারী নির্যাতনে সরকার জিরো টলারেন্স বলেও আজ ফের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, নারী নির্যাতন হলে সরকার আইনের মধ্যে দিয়ে কত দূর যেতে পারে তা সবাই দেখুন।
প্রাক্তন সরকারের আমলে রাজ্যে একের পর এক নারী নির্যাতনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে আজ তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রীতিমত কটাক্ষে বিঁধে তিনি কি বলতেন তার উদ্ধৃতি দেন, যেমন “ছোট ঘটনা, মেয়েটা প্রেগন্যান্ট ছিল, প্রেম ছিল ইত্যাদি ইত্যাদি।” তাঁর সরকার যে কোনভাবেই যে কোন বয়েসের নারীদের ওপর কোন ধরনের নির্যাতন বরদাস্ত করবেন না তা পরিস্কার জানান। বলেন, আর জি কর কান্ডে নাম জড়ানো দুই চিকিৎসক সন্দীপ ঘোষ, বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আগের সরকার শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দেয়নি, তাঁরা এই অনুমতি দিয়েছেন। ওঁদের মেডিকেল লাইসেন্স বাতিল হয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধেও তাঁদের জিরো টলারেন্স মনোভাব স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন,
সিপিএম, টিএমসি, সবার দুর্নীতির বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টিএমসি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি করেছিল, সিপিএম রাজনৈতিক দুর্নীতি করেছিল বলে তোপ দাগেন।
বিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দুর্নীতি যাঁরা করেছেন, কেউ ছাড় পাবেন না। সমর মুখার্জি, সমীর জানা প্রমুখের নাম করে বলেন, ওঁদের কোন ভয় নেই।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত সরকারের আমলে উনি পুলিশমন্ত্রী হওয়া সত্বেও পুলিশ বাজেট নিয়ে কোন আলোচনা হোত না৷ গিলোটিনে তা পাস হয়ে যেত।
পুলিশে কোন স্থায়ী নিয়োগ হোত না। কেন হোত না, তা ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্থায়ী নিয়োগ হলে তো পুলিশ কথা শুনতো না! এর বদলে তাই সিভিক ভলান্টিয়ার নেওয়া হোত। পুলিশকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ যে যত নীচে নামানো যায় তাই করে গেছেন বলে তিনি তোপ দাগেন।
জানান, পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি-সহ তাদের উন্নয়নে তাঁরা সব রকম ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
সিভিক ভলান্টিয়ারদের কোন যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ছিল না, রাজনৈতিক আনুগত্যই একমাত্র বিবেচিত হোত। ওঁরা যে সবাই খারাপ তা নয় জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওঁদের দিয়ে অনেক কিছু করানো হোত৷

Be the first to comment