রোজদিন ডেস্ক :
ডবল ইঞ্জিনের রাজ্য বিহারে বড় ধাক্কা বিজেপির। বাঁকিপুরের দীর্ঘ দিনের গেরুয়া গড় ভেঙে জয়ী হলেন ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর। পি কে নামেই খ্যাত তিনি। বিহার বিধানসভা নির্বাচন প্রার্থী দিয়েও একটি আসনও পায়নি তাঁর দল জন সুরাজ পার্টি। এবার নিজে বাঁকিপুর উপ নির্বাচনে দাঁড়িয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নীরজ কুমারকে ১৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করলেন প্রশান্ত কিশোর। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস আন্দোলনের পর এই জয়ে বিজেপি বড় ধাক্কা খেল, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া উপ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিং। মোদি শাহর নিজের রাজ্য গুজরাটের মঞ্জলপুর আসনে বিজেপি প্রার্থী জয়ী হলেও ভোটের হার অনেক কমেছে। বেড়েছে কংগ্রেসের ভোট।
তিন রাজ্যের উপনির্বাচনে অবশ্যই নজর কাড়া ফল হয়েছে বাঁকিপুরে। গত ত্রিশ বছরের বেশি সময়ে এই আসনটি বিজেপির দখলে ছিল। জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের বাবা ও পরে তিনিও একাধিকবার এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন। বিজেপির সেই শক্তিশালী গড়ে জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা প্রশান্ত কিশোরের জয় কার্যত ইতিহাস সৃষ্টি করল বলে রাজনীতির কারবারিরা মনে করেন।।
বিহারের দীর্ঘদিনের জাত-পাত ইত্যাদির বিপরীতে গিয়ে প্রশান্ত কিশোর নির্বাচনে রাজ্যের ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছিলেন। গান্ধী দর্শনে গোটা বিহারে যাত্রা করেছিলেন। প্রগতির ছোঁয়া লাগা তাঁর বক্তব্য যে বাঁকিপুরবাসীর মনে ধরে ছিল, এই জয় তার নিদর্শন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজেপির দাবি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রভাব এখানে পড়েছে।
প্রশান্ত কিশোর বলেছেন, এই জয় বাঁকিপুরের মানুষের জয়। এটি শুধু একজন বিধায়কের নির্বাচন ছিল না, প্রচারে তাঁরা বার্তা দিতে চেয়েছিলেন, একজন ভাল মানুষ যেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হন। কোন অপরাধমূলক পটভূমি যেন তাঁর না থাকে।
প্রসঙ্গত, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে নীতিশ কুমার ইস্তফা দেওয়ার পর গত এপ্রিল মাসে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেন সম্রাট চৌধুরী।
মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে পি কের বাঁকিপুর জয় তাঁকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করেন।

Be the first to comment