রোজদিন ডেস্ক :
প্রখ্যাত কবি, লেখক, অনুবাদক, গবেষক কেতকী কুশারী ডাইসনের (৮৬) (Ketaki kushari Dyson) জীবনাবসান হয়েছে। কলকাতার এই মেধাবীনি বিদেশে থেকেও বাংলা ভাষায় আজীবন সাহিত্য, সংস্কৃতির চর্চা করে গেছেন। রবীন্দ্রনাথের রচনা, তাঁর চিত্রকর্মের ওপর তাঁর অসামান্য গবেষণা প্রবাদপ্রতিম বললেও বুঝি অত্যুক্তি হয় না। সাহিত্য, অনুবাদ, গবেষণার সব ক্ষেত্রেই তাঁর বহুমুখী প্রতিভা ছিল। বিদেশি স্বামী, বিদেশে থেকে বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর আহীবন প্রগাঢ় অনুরাগ ছিল। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তাঁর দক্ষতা ছিল অপরিসীম। সুদূর অক্সফোর্ডের এই বাঙালি লেখক, কবি, অনুবাদকের প্রয়াণের খবরে রাজ্যের সাহিত্য, সংস্কৃতি জগতে গভীর বেদনার ছায়া নেমেছে।
১৯৪০ সালে অবিভক্ত বঙ্গে জন্ম তাঁর। বাবার চাকরি সূত্রে থাকতেন কলকাতায়। ইংরেজি সাহিত্যে রেকর্ড নম্বর নিয়ে ১৮৫৮ সালে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক হন। এরপর বিদেশেই তাঁর পড়াশোনা, বিয়ে, জীবন যাপন। কিন্তু কলকাতা, এই পশ্চিমবঙ্গকে কখনো ভোলেননি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর, পিএইচডি করেছেন। ওখানেই ইয়র্কশায়ারের বাসিন্দা পদার্থবিদ্যার ছাত্র রবার্ট ডাইসনের সঙ্গে পরিচয়, প্রেম ও বিয়ে। রেখে গেলেন স্বামী রবার্ট ডাইসন, দুই পুত্র ভার্জিল পুজারী ডাইসন ও ইগর নীলাদ্রি ডাইসন-কে।
১৯৭৭ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ বল্কল’ প্রকাশিত হয়। এরপর একাধিক উল্লেখযোগ্য সাহিত্য রচনা করেছেন তিনি। “রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে ” তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় গ্রন্থ। এক দশক আগে তিনি দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছিলেন বলে জানা যায়, হারান নি তাঁর মনের জোর, সৃষ্টিশীলতাকেও। আজীবন স্বামী রবার্ট তাঁর পাশে থেকে সব কাজে সহায়তা করে গেছেন। কিংবদন্তি লেখক বুদ্ধদেব বসু-কে কেতকী কুশারী ডাইসন কথা দিয়েছিলেন, বাংলায় তিনি লিখবেন। সেই কথা তিনি রেখেছেন, এই রাজ্যের বহু নামী পত্রপত্রিকায় তাঁর অনবদ্য নানাবিধ সাহিত্য কর্ম মণিমুক্তোর মত ছড়িয়ে আছে। প্রবাসে থেকেও তিনি এই রাজ্যের অতি প্রিয় আপনজন হয়ে উঠেছিলেন।
করোনার পর থেকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ছিলেন। শুক্রবার চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
স্বদেশ, বিদেশে রেখে গেলেন তাঁর অগণিত গুণমুগ্ধদের।

Be the first to comment