রোজদিন ডেস্ক :
রাজ্যে জেলা পরিষদ দখলেও রিসর্ট রাজনীতির (Resort Politics) অনুপ্রবেশ! এমনই অভিযোগ ঘিরে রীতিমত সরগরম মালদার রাজনৈতিক বাতাবরণ। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার মালদা জেলা পরিষদের দখল নিলো বিজেপি। মাস তিনেক আগে থেকে এর সূত্রপাত। সাবেক তৃণমূলের জেলা সভাধিপতি, সহ সভাধিপতির বিরুদ্ধে দলের ১৯ জন সদস্য অনাস্থা এনেছিলেন। এতে সমর্থন দেন কংগ্রেসের ৫ জন। ৪৩ আসনের এই জেলা পরিষদে বিজেপি সদস্য ছিলেন মাত্র ৪ জন। বিভাজিত তৃণমূলের ঋতব্রত শিবির ও কংগ্রেসের সদস্যরা অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ছিলেন।
এই সব রাজনীতি নিয়ে পরিস্থিতি ক্রমে জটিল হলে তা আদালত অবধি গড়ায়। আদালত সভাধিপতি, সহ সভাধিপতি নির্বাচনের দিন স্থির করে দিলে আজ সেই নির্বাচন হয়।
ইতিমধ্যে মালদা জেলা পরিষদের ক্ষমতা দখলে মরীয়া ছিল কংগ্রেসও। প্রাক্তন সাংসদ মৌসম বেনজির নুরের নেতৃত্বে ঋতব্রত শিবিরের (?)২৪ সদস্যকে ঝাড়খন্ডে নিয়েও যাওয়া হয়েছিল। গতকাল গভীর রাতে সেই রিসর্ট থেকে তাঁরা ফেরেন। তাঁদের তিন জনকে আটক করে পুলিশ।
আজ ভোটাভুটির আগে থেকেই হাওয়া বদলাতে শুরু করে। সভাধিপতি পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকায় বিজেপি দীপিকা বালার নাম প্রস্তাব করে। তাঁকে সমর্থন করেন প্রাক্তন সভাধিপতি লিপিকা বর্মনের শিবির। ত্রিশ জন সদস্য আজ উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের সিংহ ভাগই বিজেপির পক্ষে ভোট দেন।ফলত চারজন সদস্য থাকলেও দীপিকা বালা সভাধিপতি নির্বাচিত হন। সহ সভাধিপতি হন প্রাক্তন সভাধিপতি লিপিকা বর্মন।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ কংগ্রেস শিবির। অতজন সদস্যকে ঝাড়খন্ডের রিসর্টে নিয়েও তাঁদের পরিকল্পনা এই ভাবে ভেস্তে যাওয়ার কথা তাঁরা ভাবেননি।
বিজেপির দাবি, তাঁরা কাউকে ভাঙায়নি, স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের পক্ষে ভোট এসেছে। আপাতত বিজেপি জেলা পরিষদের ক্ষমতা দখল করা নিয়ে মালদায় রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। আমজনতা চান জেলার উন্নয়ন হোক।

Be the first to comment