টিবি মুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্যে বিশেষ কর্মসূচি, নদিয়ায় সম্মানিত ৯৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত

Spread the love

রমিত সরকার, নদিয়া : 

টিবি মুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে দেশজুড়ে আয়োজিত হল বিশেষ কর্মসূচি। বৃহস্পতিবার আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। টিবি রোগ দ্রুত শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয় এই কর্মসূচিতে।

কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে টিবি শনাক্তকরণ এবং রোগীদের বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ ব্যবস্থার সূচনা করা হয়। ভিডিও ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে টিবি আক্রান্তদের শনাক্তকরণ এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টিবি নির্মূলের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নদিয়া জেলা প্রশাসনিক ভবনেও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচার দেখানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ, জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক-সহ জেলার একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা।

টিবি মুক্তির ক্ষেত্রে নদিয়া জেলার সাফল্যও এদিনের অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উঠে আসে। পশ্চিমবঙ্গে টিবি মুক্ত জেলা হিসেবে উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি অর্জন করেছে নদিয়া। জেলার ৯৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতকে টিবি মুক্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। টিবি নির্মূলের লক্ষ্যে স্থানীয় স্তরে রোগ শনাক্তকরণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্তদের চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের যৌথ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়।

টিবি মুক্ত হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ৯৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শংসাপত্র ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। এই স্বীকৃতি আগামী দিনে জেলার অন্যান্য এলাকাতেও টিবি নির্মূলের কাজকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আশা প্রশাসনের।

অনুষ্ঠানে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং বিধায়ক তাঁদের বক্তব্যে টিবি রোগের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক লড়াই, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা পরিষেবা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে টিবি নির্মূলের লক্ষ্যে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, টিবি মুক্তির এই সাফল্য ধরে রাখতে আগামী দিনেও জেলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে নজরদারি, সচেতনতা কর্মসূচি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও জোরদার করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘টিবি মুক্ত ভারত’ লক্ষ্যকে সামনে রেখে নদিয়াকে সম্পূর্ণ টিবি মুক্ত করার পথে এই উদ্যোগ আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*