রমিত সরকার, নদীয়া :
জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে এবার বিশেষ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব পেতে চলেছে কৃষ্ণনগর। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৬ নভেম্বর কৃষ্ণনগর শহরে আসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর হাত দিয়ে শহরের তিন থেকে চারটি জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধনের সম্ভাবনা রয়েছে। পুজো উদ্যোক্তাদের দাবি, এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী সশরীরে কৃষ্ণনগরে এসে জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধন করতে চলেছেন।

আগামী ১৮ নভেম্বর কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজো। তার দু’দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর ঘিরে শহরের একাধিক পুজো কমিটির মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা তুঙ্গে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি বারোয়ারির পক্ষ থেকে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কাঁঠালপোতা থেকে বউবাজার, একাধিক পুজো কমিটি মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে পুজোর উদ্বোধনের আশায় রয়েছে।


কাঁঠালপোতা বারোয়ারির সভাপতি শীর্ষেন্দু দাস জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে প্রশাসনের সঙ্গে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করা হবে। তিনি বলেন, “প্রশাসনের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই সমস্ত কর্মসূচি পালন করব। আমাদের ছোটমার আবক্ষ মূর্তি উন্মোচনের জন্য মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তাঁর আসার সম্ভাবনা প্রবল।”
অন্যদিকে, বউবাজার বারোয়ারিও মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে পুজোর উদ্বোধনের অপেক্ষায়। কমিটির সম্পাদক রাজু দাসের কথায়, স্বাধীনতার পর এই প্রথম কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো উদ্বোধনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সশরীরে উপস্থিতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত বড় পাওনা। মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে বউবাজার বারোয়ারির পুজো উদ্বোধনের কথা রয়েছে। এবার আমরা বড় করে পুজোর আয়োজন করছি। তাঁকে স্বাগত জানাতে আমরা মুখিয়ে রয়েছি।”
উল্লেখ্য, কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, শহরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত এই শহরে প্রতিবছর শতাধিক বারোয়ারির উদ্যোগে দেবীর আরাধনা হয়। মৃৎশিল্পের শহর কৃষ্ণনগরের প্রতিমার বৈচিত্র্য, সাবেকিয়ানা, মণ্ডপসজ্জা এবং চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা দেখতে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি ভিন জেলার দর্শনার্থীরাও ভিড় জমান। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পুজোর জাঁকজমক এবং দর্শনার্থীদের সমাগম।

তবে এবারের জগদ্ধাত্রী পুজোয় উৎসবের পাশাপাশি রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনও বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। শহরের একাধিক পুজো কমিটির নেতৃত্বে জায়গা করে নিয়েছেন বিজেপি নেতারা। ফলে পুজোর সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের ছবি স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য সশরীরে উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল। গত বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভার্চুয়াল উপস্থিতির পর এবার শুভেন্দু অধিকারীর সশরীরে উপস্থিতির সম্ভাবনা এবারের পুজোয় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ। অতীতে জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণনগর শহরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির নজির রয়েছে। শহরের শতাধিক পুজো, বিপুল দর্শনার্থীর ভিড়, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা—সব দিক সামলাতে প্রশাসনকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এখন নজর, শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সূচি মেনে মুখ্যমন্ত্রীর কৃষ্ণনগর সফর হয় কি না।

Be the first to comment