স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনেই আত্মহত্যা করেছিলেন মানিকতলার গৃহবধূ, এবার সামনে এলো মামলার রায়

Spread the love
কখনও পণের দাবি মেটাতে না পারলে খুন করা হচ্ছে নব বিবাহিতী স্ত্রীকে, আবার কখনও শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হচ্ছেন গৃহবধূ। একের পর এক বধূ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে শহরের বুকে। এ বারের ঘটনাস্থল মানিকতলা।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৭ জুলাই এক তরুণীর আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা সামনে আসে। তদন্ত নেমে পুলিশ জানতে পারে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকের নির্যাতনেই আত্মহত্যা করেছিলেন ওই তরুণী। ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই মামলারই রায় বেরিয়েছে সম্প্রতি।
মৃতার নাম ঝুমা বসু। নিউ ব্যারাকপুরের বাসিন্দা ঝুমার সঙ্গে মানিকতলার রাজু সাহার বিয়ে হয় ২০০৮ সালে। ঝুমার পরিবার সূত্রে খবর, বিয়েতে নগদ টাকা, গয়না-সহ পাত্রপক্ষের হাজারটা জাবি দাওয়া ছিল। তার অনেকটাই মিটিয়েছিলেন ঝুমার বাবা। কিন্তু, তাতে খুশি ছিলেন না রাজুর পরিবারের লোকজন।
এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায়ই ঝুমাকে কান্নাকাটি করতে দেখা যেত। শ্বশুরবাড়িতে তাঁর উপর তীব্র শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলত। তাতে সামিল ছিলেন ঝুমার স্বামীও। দিনের পর দিন চলেছে এই নির্যাতন। ঝুমার পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, বাড়িতে কোনও কথাই সে ভাবে বলেননি ঝুমা। সবটাই নিজে সহ্য করে গেছেন। তাঁদের দাবি, ঝুমাকে আত্মহত্যার প্ররোচনাও দিতেন তাঁর স্বামী।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৭ জুলাই শ্বশুরবাড়িতে নিজের ঘরেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ঝুমা। সঙ্কটজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।
ঝুমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মানিকতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁর মা অঞ্জনা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ঝুমার স্বামী রাজু, শ্বশুর দুর্জন চন্দ্র সাহা, শাশুড়ি হাসি, দেওর গণ এবং ননদ মিঠু দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জেরায় অপরাধ স্বাকীরও করেন তাঁরা। ধৃতদের বিরুদ্ধে বধূনির্যাতন, আত্মহত্যার প্ররোচনা-সহ ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার রায়ে অভিযুক্তদের দশ বছর সশ্রম কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি, চার হাজার টাকা করে জরিমানা। জরিমানা অনাদায়ে শাস্তির মেয়াদ বাড়বে আরও ৬ মাস।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*