পাড়ার মহিলারা রাস্তায় ফেলে পিটিয়েছিলেন তাঁকে। কিন্তু তাতেও শেষ হলো না। জনতার অভিযোগ গিয়েছিল দলের শীর্ষস্তর পর্যন্ত। তাতেই নড়েচড়ে বসল বাংলার শাসক দল। উত্তরপাড়া-কোতরং পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল (জল) সুমিত চক্রবর্তী ওরফে টুকাইকে সাসপেন্ড করা হলো। এ দিন চেয়ারম্যান দিলীপ যাদবকে পাশে নিয়ে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এই কথা ঘোষণা করেন। সেইসঙ্গে জানিয়ে দেন, এখন থেকে জলের দায়িত্ব দেখাশোনা করবেন চেয়ারম্যান নিজেই।
দুর্গা পঞ্চমীর দিন তৃণমূল কাউন্সিলরের মার খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। অভিযোগ ছিল স্থানীয় একটি পুজো প্যান্ডেলে দলবল নিয়ে হামলা চালিয়েছিলেন টুকাই। পরের দিন সকালে এলাকার মহিলারা মিলে রাস্তায় ফেলে পেটান দাপুটে এই জনপ্রতিনিধিকে। পরনের শার্ট অবধি ছিঁড়ে দেন পাড়ার মেয়ে-বউরা। কোনওক্রমে পালিয়ে আসেন সুমিত চক্রবর্তী।
এ দিন ফিরহাদ হাকিম বলেন, “সুমিত চক্রবর্তীর কাজ দল সমর্থন করেন না। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভীষণ ক্ষুব্ধ। এই ঔদ্ধত্য কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।”
উত্তরপাড়ার ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় হুগলি জেলা তৃণমূলে। তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, জেলা সভাপতি তথা মন্ত্রী তপন দাশগুপ্তকে রাজ্য নেতাদের ‘ধমক’ও শুনতে হয়েছিল । অনেকের মতে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতেই এ দিন সুমিত চক্রবর্তীকে সাসপেন্ড করা হলো।
যদিও উত্তরপাড়া এলাকার শাসক দলের একাংশের দাবি, প্যান্ডেল ভাঙচুর একটা ছুতো মাত্র। মানুষের ক্ষোভ এতটাই ছিল, যে টুকাইবাবুর উপর যে কোনও দিন জনরোষ আছড়ে পড়ত। সাসপেন্ড করার পর অভিযুক্ত কাউন্সিলরের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য ফোন করা হলেও ফোনে পাওয়া যায়নি তাঁকে।

Be the first to comment