তিলজলার শিবতলা লেনের হেলে পড়া বাড়িটি দ্রুত ভেঙে ফেলা হবে, জানালেন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়

Spread the love
তিলজলার শিবতলা লেনের হেলে পড়া ১২/১১ নম্বর বাড়িটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব বাড়িটি ভেঙে ফেলা হবে। হেলে যাওয়ার পরেই ওই বাড়ি পর্যবেক্ষণে গিয়েছিলেন পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা। পরিস্থিতি পরিদর্শন করে রিপোর্টও পেশ করেছেন তাঁরা। আর সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাড়িটি আগামী তিন-চার মাসের মধ্যেই পাশের ১২/১২ নম্বর বাড়ির সঙ্গে পুরোপুরি ভাবে জুড়ে যেতে পারে। তাই বিপদ এড়াতে আগেভাগেই সতর্ক হয়েছে পুরসভা। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে হেলে পড়া ওই বাড়িটি ভেঙে ফেলা হবে।
গত ২৪ অক্টোবর রাতে হেলে পড়ে তিলজলা শিবতলা লেনের ১২/১১ নম্বর পাঁচতলা বাড়িটি। পাশের ১২/১২ নম্বর বাড়ির সঙ্গে দূরত্ব ছিল প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ফুট। কিন্তু হেলে যাওয়ার ফলে সেখানে এখন একটি বাড়ির কার্নিশে হেলান দিয়ে রয়েছে আরেকটি বাড়ি। জানলায় লেগে গিয়েছে পাশের বাড়ির জানলা। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল। পৌঁছন পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররাও। দু’টি বাড়িই খালি করে দেওয়া হয়। বসে পুলিশি পাহারা। স্থানীয়দের নির্দেশ হয়, পুলিশ এবং দমকলের অনুমতি ছাড়া কেউ ভিতরে ঢুকতে পারবেন না। পুলিশের পাশাপাশি নজরদারি শুরু করেন স্থানীয়রাও। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনও বহিরাগত যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেই দিকেও লক্ষ্য রাখা হয়।
এ দিকে স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন, হেলে পড়া বাড়ির বয়স মাত্র সাত বছর। ২০০৯ সালে জলাজমি বুজিয়ে ওই এলাকায় নির্মাণ শুরু হয় ১২/১১ নম্বর বাড়িটির। কাজ শেষ হয় ২০১১ সালে। সাত বছরের মাথাতেই হেলে পড়েছে ওই বাড়ি। স্বভাবতই বাড়ির নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এলাকাবাসীর মনে। কেউ কেউ বলেছেন জলাজমি বুজিয়ে তাড়াহুড়ো করে নির্মাণের ফলেই এত কম সময়ে হেলে পড়েছে বাড়ি। কেউ বা বলেছেন নির্মাণ সামগ্রীতেও ছিল ভেজাল। অনেকে আবার বলেছেন, পাশের ১২/১২ নম্বর বাড়িটি তৈরি হয়েছে ১২/১১ নম্বর বাড়ির পরে। হয়তো সেই সময় খোঁড়াখুঁড়ির ফলে নড়ে গিয়েছিল বাড়ির ভিত। আর তার জেরেই ঘটেছে এই বিপত্তি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*