মোদী সরকারকে তীব্র অস্বস্তিতে ফেলে দিলেন সিবিআই কর্তা মণীশ কুমার সিনহা

Spread the love
সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক দাবি করে ফের কেন্দ্রে মোদী সরকারকে তীব্র অস্বস্তিতে ফেলে দিলেন সিবিআই কর্তা মণীশ কুমার সিনহা। সিবিআই ডিরেক্টর অলোক বর্মা এবং স্পেশাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানার মধ্যে সংঘাত থামাতে কিছু দিন আগে কেন্দ্রীয় এই তদন্ত এজেন্সিতে বড় রকমের রদবদল করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অলোক বর্মা ও রাকেশ আস্থানার সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তাঁদের ছুটিতে যেতে বলা হয়। সেই সঙ্গে রাতারাতি বেশ কিছু অফিসারকে এজেন্সির হেড কোয়ার্টার থেকে বদলিও করে দেওয়া হয় তখন। মণীশ সিনহা তেমনই এক সিবিআই কর্তা। যিনি খোদ রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধেই তদন্ত করছিলেন।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করে তিনি বলেন, রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে নেমে বিস্ফোরক তথ্য হাতে পেয়েছিলেন তিনি। এক ব্যবসায়ীকে সিবিআই মামলা থেকে রেহাই দিতে বহু কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক সদস্য। এ ব্যাপারে তাঁর কাছে এমন সব তথ্য প্রমাণ রয়েছে যা দেখে সুপ্রিম কোর্টও চমকে যাবে। এই দাবি করে মঙ্গলবারই তাঁর পিটিশনের শুনানির দাবি করেন ওই সিবিআই কর্তা।
যদিও প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, কোনও কিছুতেই আমরা চমকাচ্ছি না! অবিলম্বে শুনানি শুরু করার দাবিও তিনি শুনতে চাননি। বরং ধীরে সুস্থে এগোনোর কথাই বলেন। প্রসঙ্গত, তাঁকে জোর করে ছুটিতে পাঠানোর ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন এজেন্সির ডিরেক্টর অলোক বর্মা। মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানির কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ভিজিলেন্স কমিশনের কাছে অলোক বর্মা তাঁর জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু সেই জবানবন্দিও এখন ফাঁস হয়ে গিয়েছে। এবং তাও ঘোর অস্বস্তিতে ফেলেছে কেন্দ্রে মোদী সরকারকে। কারণ, জবানবন্দিতে সিবিআই ডিরেক্টর কার্যত বোমা ফাটিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, আইআরসিটিসি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সিবিআইয়ের স্পেশাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানা, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের এক কর্তা এবং বিহারের উপ মুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদী আরজেডি নেতা লালু প্রসাদের বিরুদ্ধে ‘কেস’ সাজিয়েছিলেন।
শুধু রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধেই নয়, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তের সঙ্গে জড়িত ছিলেন মণীশ কুমার সিনহা। তার মধ্যে অন্যতম সেলিব্রিটি হীরে ব্যবসায়ী নীরব মোদী ও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারি। মণীশের বক্তব্য, এই সব তদন্তের গতিমুখ ঘুরিয়ে দিতেই তাঁকে রাতারাতি বদলি করা হয়েছে। কারণ, তাঁর তদন্তের বেশ কিছু রাঘববোয়ালের নাম উঠে আসছিল। তাতে শুধু রাকেশ আস্থানা বিপদে পড়তেন তা নয় ক্ষমতাশীল অনেক লোকের বিপদ হয়ে যেত।
সন্দেহ নেই সিবিআইয়ের মধ্যে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে এখন একের পর এক বিষধর সাপ বেরিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে গোটা রাজনৈতিক শিবিরের চোখ সুপ্রিম কোর্টের দিকে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে যদি অলোক বর্মাকে বেকসুর বলে জানিয়ে দেন বিচারপতিরা, তা হলে তাঁকে ফের সিবিআই ডিরেক্টর পদে ফেরানোর জন্য মোদী সরকারের উপর চাপ বাড়বে। এবং অলোক বর্মা এখন আহত বাঘের মতোই। ফলে তিনি ফের চেয়ারে বসার সুযোগ পেলে আর কী কী বিস্ফোরণ ঘটাবেন এখন সেটাই দেখার।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*