সিবিআই কর্তাদের ঝগড়া নিয়ে মঙ্গলবার সকালে টুইট করলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি লিখেছেন, দিল্লিতে এখন নাটক চলছে, চৌকিদার হি চোর । সে এক রীতিমতো ক্রাইম থ্রিলার। তার সর্বশেষ পর্বে এক শীর্ষস্থানীয় অফিসার অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, আইন মন্ত্রকের সচিব ও মন্ত্রিসভার সচিবের বিরুদ্ধে।
এর পরে কারও নাম না করে রাহুল লিখেছেন, ‘গুজরাতে তাঁর সঙ্গীরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অফিসাররা ক্লান্ত। বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গিয়েছে। গণতন্ত্র কাঁদছে।’

এক্ষেত্রে রাহুল আই পি এস অফিসার মনীশ কুমার সিংহের অভিযোগের কথা বলতে চেয়েছেন। তিনি সিবিআই কর্তা রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে তদন্ত করছিলেন। তাঁকে নাগপুরে বদলি করা হয়। তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন, আস্থানার ব্যাপারে ঠিকমতো তদন্ত হোক। একইসঙ্গে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, কয়েকজন সচিব ও এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জনৈক ব্যবসায়ীর থেকে কোটি কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন। আমাকে গত ২৪ অক্টোবর সম্পূর্ণ একতরফা, অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে বদলি করা হয়েছে। আমি কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত করছিলাম। সেজন্য আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সিবিআই ডিরেক্টর অলোক বর্মা কয়েক মাস আগে তাঁর অধীনস্থ রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে এক হায়দরাবাদের ব্যবসায়ীর থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। আস্থানা পালটা বলেন, তিনি নন, বর্মাই ওই ব্যবসায়ীর থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন। এই নিয়ে বিবাদ চরমে ওঠার পরে দু’জনকেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
সিবিআই কর্তাদের বিরোধ নিয়ে প্রথম থেকেই বিজেপিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাচ্ছে কংগ্রেস। এদিন তার সঙ্গে রাহুল জুড়ে দিয়েছেন চৌকিদার প্রসঙ্গ। ২০১৩ সালে এক সভায় মোদী বলেছিলেন, তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করলে তিনি চৌকিদারের ভূমিকা পালন করবেন।
রাহুলের বক্তব্য, মোদী কার চৌকিদার হবেন সেকথা বলেননি। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে তিনি শিল্পপতিদের চৌকিদার। তিনি নিজে শিল্পপতি অনিল আম্বানিকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন ফ্রান্সে। সেখানে আম্বানি রাফায়েল চুক্তি সই করেন। তাঁর পকেটে যায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
কংগ্রেস সভাপতির দাবি, তিনি রাস্তায় লোককে বলতে শুনেছেন, গলি গলি মে শোর হ্যায়, হিন্দুস্তান কি চৌকিদার হি চোর হ্যায়।

Be the first to comment