রোজদিন ডেস্ক : যতদিন যাচ্ছে বাংলায় এসআইআর নিয়ে নতুন নতুন অভিযোগ সামনে আসছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চাপানউতোর চলছেই। এর মাঝে সোমবার রাজ্যের সিইও দফতরে যান তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের এক প্রতিনিধি দল। সেখানে গিয়ে তাঁরা রাজ্যের সিইও দফতরে অনৈতিক ভাবে বিপুল পরিমান ফর্ম ৬ জমা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠক শেষ করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, আমরা হাতেনাতে ধরেছি। প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম ৬ জমা দিয়ে বিহার, উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দাদের এখানকার ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা হয়েছে। কিছু মানুষ বাংলাকে ভালোবাসেন, তাঁরা ভিডিয়ো করে পাঠিয়েছেন। পেটি ধরে ধরে দোতলায় স্টোর করে রাখা রয়েছে সেই সব ফর্ম। সেই ভিডিয়ো আমি এক্স হ্যান্ডলে দিয়েছি। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, ৫০-এর বেশি ফর্ম ৬ সাবমিট করতে পারে না। আজকে সকাল এগারোটা থেকে ৬-৭ ঘণ্টায় ৩০ হাজার ফর্ম ৬ অবৈধ ভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। এঁরা বাংলার ভোটার নয়, বিহার-ইউপির ভোটার। এইভাবেই মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, দিল্লিতে ভোট চুরি হয়েছিল। ওরা ধরতে পারেনি। কেজরিওয়াল ধরেছিলেন, তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। এখানে সেই একই কায়দা প্রয়োগ করে বাংলা দখল করতে চাইছে। খোদ নির্বাচন কমিশনের দফতরেই সিসি ক্যামেরা নেই এদিকে সারা রাজ্যে ওয়েব কাস্টিং করতে চায় তাঁরা। সেই অর্ডারও পেয়েছে গুজরাতের একটি সংস্থা।অভিষেক আরও বলেন, নোয়াপাড়া বিধানসভায় ৬৫০-৭০০ ফর্ম ৬ জমা পড়েছে। ব্যারাকপুর, পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা, উত্তর কলকাতায় তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ফর্ম ৬ জমা পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ হাজার ফর্ম ৬ জমা পড়লে প্রায় ৬০০ জনকে সশরীরে এই অফিসে আসতে হয়। কিন্তু হাতেগোনা কয়েকজন এসে ফর্ম ৬ জমা দিয়েছেন। আমরা সিইও-এর কাছে আবেদন জানিয়েছি, আজকে বেলা ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজ বের করুন। সবটা প্রকাশ করুন। তাহলে পুরোটাই সামনে আসবে। আমরা যে দাবি তুলেছি, সেটার সদুত্তর সিইও দিতে পারেননি। দাবি এড়িয়ে গিয়েছেন। এরপরেই বিজেপিকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, বাংলার পুরো ডেমোগ্রাফি চেঞ্জ করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন এবং অমিত শাহ। ক’জন বাংলাদেশিকে ধরা পড়েছে? একটা সদুত্তর দিতে পারেনি। সিইও অফিসে গিয়ে ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সেই নিয়মও মানা হয়নি। তিনি সকলের কাছে আবেদন করেন, যারা বাংলাকে ভালবাসেন আপনারা কয়েকদিন একটু নজরদারি চালান। সংবাদমাধ্যমকেও তিনি নজরদারি করার অনুরোধ করেন। দলের নেতা, কর্মী ও প্রার্থীদের জন্য তাঁর নির্দেশ ফর্ম জমা দেওয়ার শেষদিন পর্যন্ত কড়া নজর রাখতে হবে।

Be the first to comment