একুশের মঞ্চে চমক, বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজকে সম্মান মুখ্যমন্ত্রীর

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় চমক শনিবার দেশপ্রিয় পার্কের একুশে ফেব্রুয়ারির মঞ্চে। এদিন ভাষাদিবসে মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই দেখা গেল বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজকে। শনিবার তাঁকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানেও ভূষিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরীয় পরিয়ে, স্মারক তুলে দিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান মুখ্যমন্ত্রী। আপ্লুত অনন্ত মহারাজ চিলা রায়ের কবিতা পাঠ করেন।

এদিন একুশের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২১ মানে শুধু ভাষা নয়, ২১ মানে মানবিকতা সমস্ত ভাষার সংহতির এক দর্পণ। যারা মারা গিয়েছেন জীবন দিয়েছেন তাদের জন্য তর্পণ। আমরা সব ভাষাকে সম্মান জানাই, আমরা রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের দেশের লোক। নেতাজি, স্বামীজি, রাজা রামমোহন রায়, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন, মাতঙ্গিনী সবাই এই ভাষায় কথা বলতেন। সব ভাষাকে সম্মান জানিয়ে বলি যে কোনও ভাষার উপর আঘাত এলে আমরা রুখে দাঁড়াবো। আমাদের ভাষাকে দয়া করা অসম্মান করবেন না। অনেক জায়গা দেখতে পাচ্ছি বাংলায় কথা বললে তার পেছনে অনুপ্রবেশকারী তকমা দিয়ে অত্যাচার করা হচ্ছে। কেন কি কারণে, দেশটাতো ভারতবর্ষ। এখানে বাইরের রাজ্য থেকে এক দেড় কোটি লোক কাজ করে। গুজরাট, বিহারের লোকজনদের আমরা ভাই বোনের মতো সম্মান করি। তাহলে আমাদের রাজ্যের ছেলেমেয়েরা কি দোষ করল? তাহলে অসুবিধা কোথায়? বাংলা ভাষায় কথা বলা কি অপরাধ? বাংলার মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে কেন?
এরপর এসআইআর নিয়েও আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, এত কিসের তাড়াহুড়ো বাংলার লোকেদের ভোটাধিকার বাদ দেওয়ার? সংস্কৃতি থেকে বাদ দেওয়ার? আপনারা কি চান বাংলা চলে যাক? কি চান, বাংলা গায়ের জোরে দখল করবেন? মানুষের অধিকার কেড়ে নেবেন? বাংলা না থাকলে স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্ম হত না, নবজাগরণ হত না, সতীদাহ বন্ধ হত না। যারা ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছে তার ৯০ শতাংশ বাংলার লোক। আর দশ শতাংশ পাঞ্জাবের। জালিয়ানওয়ালাবাগের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ নাইট উপাধি ত্যাগ করেছিল এটা আমরা ভুলে যাই না, কিন্তু আপনারা ভুলে যান।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*