রোজদিন ডেস্ক : ভুপেনদা (Bhupen Hazarika) ছিলেন ভারতের ঐক্যর স্বর। তাঁর গান ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছে, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। জাতীয় ঐক্যর জন্য সাংস্কৃতিক সংযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতরত্ন ভুপেন হাজারিকার শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে এই সব বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
আমজনতার প্রিয় গায়ক ভুপেন হাজারিকা কখনও দক্ষিণপন্থী সরকার বা দলের সমর্থক ছিলেন বলে শোনা যায় নি। জীবনকালেই তিনি কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন। সাবেক অসমের ভূমিপুত্র হলেও গানের মাধ্যমে সারা ভারতের মন জয় করেছিলেন তিনি। তাঁর গানে জায়গা করে নিয়েছে আমজনতা, নদী, পাহাড়, পরিবেশ। তাঁর অসামান্য গায়কিতে মূর্ত হয়েছে সাধারণ মানুষের সুখ দুঃখের রোজনামচা।

আজ গুয়াহাটিতে তাঁর কথা বলতে গিয়ে দেশের ঐক্য সংহতির ওপর বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভুপেনদা বলে আবেগজড়িত সম্বোধনে বিনম্র শ্রদ্ধায় ভরিয়ে দিয়েছেন অসমের এই রত্নসম ভূমিপুত্রকে। বলেছেন, ওঁর জীবন প্রতিফলিত হয়েছে এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারতের সুরে। তাঁকে ভারত রত্ন প্রদান করে উত্তর পুর্বে র প্রতি তাঁদের সরকারের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত হয়েছে বলেও জানান তিনি। বলেন, নতুন ভারত কখনো ই তার নিরাপত্তা বা মর্যাদার সঙ্গে আপস করবে না বলে পরিস্কার জানান।
নিজস্ব ভঙ্গিতে বলেন, এখন আমাদের ব্রান্ড দূত হোল, স্থানীয়র জন্য গলা তোলা, স্বদেশি জিনিস আমাদের গর্ব।
গত ৮ সেপ্টেম্বর ভুপেন হাজারিকার শতবর্ষ পূর্ণ হয়েছে। ওই দিন তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছিলেন তিনি। আজ তাঁর শতবার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আপ্লুত মোদিজি বলেন, নিজের সারা জীবন উনি সংগীতকেই নিবেদন করেছিলেন। ওঁর অমর সব গান সারা দেশের মন জয় করেছিল। বিদেশেও উনি বন্দিত হয়েছেন। উত্তর পূর্বে জন্ম ওঁর, এখানকার ব্রহ্মপুত্রই ওঁর সংগীত শিক্ষক বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে ভূপেন হাজারিকার কিছু লেখারও তিনি উদ্ধৃতি দেন। মাত্র ১৩ বছর বয়েসে গান লিখেছিলেন উনি। আত্মনির্ভর ভারতের ধারণা ওঁর কাছ থেকেই এসেছে। তা রূপায়িত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। যে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দল ভারতের বৈচিত্রে বিশ্বাসী নয় বলে বিরোধীরা অহরহ তোপ দাগেন, আজ মোদিজীর বক্তব্যে বারবার সেই বৈচিত্র্যর কথা শোনা যায়।
ভিড়ে ঠাসা এই বর্নময় অনুষ্ঠানে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, অরুনাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডা, অসমের রাজ্যপাল লক্ষন প্রসাদ আচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল, ভুপেন হাজারিকার পরিবারের সদস্য-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Be the first to comment