রোজদিন ডেস্ক :
ব্যাপক হারে খয়রাতি, উৎসবে দেদার খরচ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি রাজ্যকে ঋণের ফাঁদে ফেলেছেন বলে বিশিষ্ট আইনজীবী তথা যাদবপুরে সিপিএমের প্রার্থী বিকাশ ভট্টাচার্যর অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ছিল, বামফ্রন্ট সরকার ২ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ রেখে গেছে। এই বিষয়ে বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, স্বাধীনতার সময় থেকে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার সময় রাজ্যের ঋণ ছিল ২ লক্ষ কোটি টাকা, তা এখন ৮.১৫ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এই বিপুল ঋণের বোঝা সাধারণ মানুষের ওপরই চাপবে।
এক সর্ব ভারতীয় সংবাদ সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি না করে ভোট পাওয়ার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী এই সব পন্থা নিয়েছেন। যা আসলে রাজ্যের মূল অর্থনৈতিক কাঠামো কেই ধ্বংস করেছে।
টিএমসি সরকার বিজ্ঞাপন, নানা উৎসব, ধর্মীয় ক্ষেত্রে ভাতা ইত্যাদি অনুৎপাদক ক্ষেত্রে দেদার টাকা খরচ করেছে, যা অসাংবিধানিক ও।
বিজেপি ও টিএমসি উভয়ের বিরুদ্ধেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, বিজেপি হিন্দুদের স্বার্থ নিয়ে রাজনীতি করে, আর মমতা ব্যানার্জিও তাই করেন, তবে ভারসাম্য রাখতে অন্য সম্প্রদায়কেও কিছু দেন।
এই রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্গা পুজো হয়, এর জন্য উদ্যোক্তারা কখনও সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চাননি। এখন রাজ্য সরকার সরাসরি পুজো কমিটিগুলিকে টাকা দিচ্ছে, ওড়িশায় বিজেপি ও একই পন্থা নিয়েছে।
রাজনীতির সঙ্গে ধর্মকে মিশিয়ে আরএসএসের নীতি এই রাজ্যেও রূপায়িত হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।
রাজ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ করে বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, রাজ্যে সাংবিধানিক গণতন্ত্রের ইতিহাসে এই প্রথম দুর্নীতির কাজে পুরো প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদি মানুষ নিজেদের অধিকার নিয়ে সচেতন হন,দুর্নীতি কে স্বাভাবিক বলে মেনে না নেন, তাঁরা নিশ্চয়ই টিএমসি-র বিরুদ্ধে ভোট দেবেন।
কোন রকম ধর্মীয় পক্ষপাত ছাড়া তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি বলে জানান।
রাজ্যে চাকরি নেই, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শোচনীয় বলে জানিয়ে বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, এই সব কিছুর বিরুদ্ধেই তাঁদের লড়াই চলছে।

Be the first to comment