কৃষ্ণনগরে বিজেপির শক্তি প্রদর্শন—চার প্রার্থীর মনোনয়ন ঘিরে বিশাল পদযাত্রা, তীব্র আক্রমণে শুভেন্দু

Spread the love

রমিত সরকার, কৃষ্ণনগর:
বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নদীয়া জেলার রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। সেই আবহেই সোমবার কৃষ্ণনগরে বিজেপির চার প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিলকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে শক্তি প্রদর্শনের ছবি সামনে এল। বিশাল পদযাত্রার মাধ্যমে মহকুমা শাসকের দপ্তরে পৌঁছন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ঘুরে এই পদযাত্রা কার্যত জনসমাবেশে পরিণত হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর উপস্থিতিতে মনোনয়ন দাখিলের কর্মসূচি রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের রূপ নেয় বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

মনোনয়ন পর্ব শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক ইস্যুতে সরব হন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর এসআইআর সংক্রান্ত মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “চিপ ওনার মাথায় ঢোকাতে হবে। ভবানীপুরে তার নমিনেশনে মাত্র ১৬ জন ছিল, বাকিদের কাঁথি ও পটাশপুর থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এবার তোমার আমও যাবে, ছালাও যাবে।”

এখানেই থেমে না থেকে তিনি আরও দাবি করেন, প্রশাসনিক যন্ত্রকে ব্যবহার করে বিরোধীদের প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ডোর-টু-ডোর প্রচারের সময় পুলিশকে সাধারণ কর্মীর বেশে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “অতি দম্ভে লঙ্কা পুড়ে যায়—নন্দীগ্রামে যেমন হয়েছিল, ভবানীপুরেও হারবেন।”

কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ও নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেরও পাল্টা দেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, “উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়া।”

একইসঙ্গে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে শাসকদলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “পোস্ট পোল ভায়োলেন্সের ঘটনা যেখানে ঘটেছে, সেগুলো নিয়ে আমরা আগেও বলিনি। নদীয়া জেলাতেই একুশের পর তিনজন কর্মী খুন হয়েছেন, হাজার হাজার কর্মী ঘরছাড়া হয়েছেন।”

এদিন নাকাশিপাড়া-বেথুয়াডহরিতে স্কুল ছুটি রেখে সভা করার অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, “স্কুলের ২০০ মিটারের মধ্যে মাইক বাজানো যায় না, পরীক্ষা বন্ধ রেখে সভা করা যায় না—এগুলো নির্বাচনী বিধি বিরোধী। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানানো হবে।”

সব মিলিয়ে, কৃষ্ণনগরে এই মনোনয়ন ঘিরে কর্মসূচি যে শুধুমাত্র প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের বড় মঞ্চে পরিণত হয়েছে—তা স্পষ্ট। শাসক ও বিরোধী শিবিরের পারস্পরিক আক্রমণ-প্রত্যাক্রমণে নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ যে আরও চড়বে, সেই ইঙ্গিত মিলল এই দিনের ঘটনাতেই।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*