রোজদিন ডেস্ক : রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে তোপ দাগায় ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশন। এমনকি রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ ওখানে কিভাবে উপস্থিত ছিলেন, কেন তিনি ওই বৈঠক ছেড়ে চলে গেলেন না, এই প্রশ্নও উঠেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রকাশ, সিইওকে মুখ্যমন্ত্রী র প্রকাশ্যে দুর্নীতিগ্রস্ত বলায় তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করে বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচন কমিশনকে নালিশ করেছেন। যা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে রাজ্য নির্বাচন দফতরেও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক আধিকারিক জানান, সিইও পদমর্যাদা র কোন আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া এই ধরনের মন্তব্য প্রকাশ্যে করা যায় না। লোকপাল আইন অনুযায়ী কোন সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আনলে তা লিখিতভাবে দিতে হয়। সেই অভিযোগ ঠিক না হলে অভিযোগকারীর জেল, জরিমানাও হতে পারে।
অন্তত মুখ্যসচিবের এই কথা জানা উচিত। মুখ্যমন্ত্রী যখন সিইও-র বিরুদ্ধে কোনও লিখিত প্রমাণ ছাড়াই এই গুরুতর অভিযোগ করেন, তখন মুখ্যসচিবের বৈঠক ছেড়ে চলে যাওয়া শোভন হোত বলে তাঁরা মনে করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর সিইও-কে নিয়ে মন্তব্যে ক্ষুব্ধ বিভিন্ন মহলও।
প্রাক্তন আমলা জহর সরকার বাম আমলে সাফল্যের সঙ্গে সিইও-র দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি টিএমসির প্রাক্তন সাংসদও। কিন্তু প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর সিইওকে নিয়ে মন্তব্য তিনিও ভাল চোখে দেখছেন না। একে তিনি ঔদ্ধত্য মনে করেন।
বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্র, বিশ্বনাথ চক্রবর্তীও এই মন্তব্যে বিস্মিত। বিশিষ্ট আইনজীবি ফিরদৌস শামিম মনে করেন, সিইও হিসাবে মনোজ আগরওয়াল কি কোন দুর্নীতি করেছেন?? তা যদি করেন, বা আগেও যদি কিছু করেন তাঁর নাম রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ করলেন কেন তিনি প্রশ্ন তোলেন।
বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী আগামী সোমবারের মধ্যে এই বিষয়ে প্রমাণ দিতে মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী কিভাবে এই সবের মোকাবিলা করবেন বিভিন্ন মহল এখন তার অপেক্ষায়।

Be the first to comment