সেনাবাহিনীকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলতে শুরু করলেন

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- সেনাবাহিনীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিধানসভায় আনা প্রস্তাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই প্রস্তাব আনার জন‍্য স্পিকারকে ধন্যবাদ। আমরা সন্ত্রাসবাদের সমর্থক নই। সন্ত্রাসবাদের কোনও ধর্ম নেই, বর্ণ নেই। পর্যটকদের ওপর যে ভাবে অত্যাচার হয়েছে, খুন হয়েছেন, তাঁদের জন‍্য শোকস্তব্ধ। তাঁদের পরিবারকে সমবেদনা জানাই। আমাদের রাজ্যের তিন জন মারা গিয়েছেন। হিন্দুদের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে মারা গিয়েছেন যিনি। তাঁকেও কুর্নিশ জানাই।’’
‘‘আমাদের রাজ‍্যে তিন জন মারা গিয়েছেন। বাংলায় জন্মগ্রহণ করছেন যাঁরা, কেউ দেখছি উল্লেখ করছেন না। বাংলাকে ‘নেগলেক্ট’ করার কারণ নেই। স্বাধীনতা থেকে নবজাগরণে বাংলা পথ দেখিয়েছে।’’
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বাংলা প্রথম সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে নিয়ে আলোচনা করছে। তাদের ধন‍্যবাদ জানাই। ধর্মের পরিচয় জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমি শুনেছি।’’
বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পলের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনি রাজনীতি না ফ্যাশন নিয়ে কথা বলুন।’’
এরপরই মমতার সংযোজন, ‘‘অপদার্থ বিজেপি। দেশের লজ্জা। আপনি বিরোধী দলনেতা (শুভেন্দু)? লজ্জা।সামান্য ভদ্রতা জানে না। বিধানসভায় মিথ‍্যা বলছে! বাইরে কী করে এরা কে জানে? স্বামীজি রামকৃষ্ণ ঐক্যের কথা বলেছিলেন। পহেলগাঁওয়ে যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁরা মানুষ।’’

মমতার সংযোজন, ‘‘প্রস্তাবকে সমর্থন করে বলেই এই অল্প সময়ের জন‍্য হলেও শিক্ষা দেওয়া জরুরি ছিল। যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের শ্রদ্ধা জানাই। সন্ত্রাসবাদকে ক্ষমা করা যায় না। মধ‍্যপ্রদেশের এক নেতা বলেছেন, ‘মেয়েরা কেন লড়াই করল না?’ আমি বলতে চাই, কয়েক লক্ষ আর্মি (সেনা) থাকে, বিএসএফ, সবাই আছে। কেন পুলিশ ছিল না? জঙ্গিরা কোথা থেকে এলো? কোথায় গেল? পাক-অধিকৃত কাশ্মীর দখলের সুযোগ ছিল। এখনও জঙ্গিরা কেন ধরা পড়ল না?’’ তিনি আর বলেন, ‘‘রাষ্ট্রসঙ্ঘে সন্ত্রাসবাদ কমিটির চেয়ারম্যান পেয়েছে পাকিস্তান। কী ভাবে? আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কে কি খামতি ছিল? বিদেশমন্ত্রী ভাল মানুষ। একজন দক্ষ আমলা ছিলেন। আগে বাইরে থেকে কেউ এলে রাজ‍্যের একটি তালিকা ছিল। তখন মোদী-শাহের রাজ‍্য থেকে কী ভাবে পাকিস্তানে তথ্য যেত?’’মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিরোধী দলনেতা প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন,‘‘এখানে এই আলোচনা কেন?’’ পাল্টা শুভেন্দুকে মমতা বলেন, ‘‘আপনাকে দেখে মনে হয় কিছু জানেন না। আমি প্রশ্ন করব। কারণ, দেশের নীতির প্রশ্ন। কাল যখন ক্ষমতায় থাকবে না, তখন দেখবেন আপনাদের চেপে ধরেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ব‍্যর্থতায় হয়েছে। পুলওয়ামার (ঘটনার) পর রাজ‍্যপাল কথা বলেছিলেন। আমরা সিঁদুরকে সম্মান করি। আপনি মহিলাদের সম্মান করেন না। সিঁদুর নিয়ে প্রচার করে বেড়ান। যেখানে হামলা হয়েছে, কেন প্রধানমন্ত্রী যাননি? শুধু বাজার করে বেড়াচ্ছে! আপনি নিজে লড়াই করেননি। আমাদের ঘরের ছেলেদের লড়াই করতে পাঠিয়েছেন।’’

বিধানসভায় বিজেপি বিধায়কেরা ‘মোদী-মোদী’ স্লোগান তুললেন। মুখ্যমন্ত্রীর তার মধ্যেই বলে চলেন। তিনি বলেন, ‘‘আপনার মন্ত্রী, আপনার এবং সেনাবাহিনীকে বিদেশে পাঠানো উচিত ছিল। আপনি যা করতে পারেননি, বিরোধীরা তা করেছে। ভোট এলেই ‘পুলওয়ামা’ যেন করতে না হয়!’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘দেশকে নিরাপত্তা দিতে পারেননি। আপনি আমাকে হিন্দু ধর্ম শেখাচ্ছেন? রামকৃষ্ণ, গান্ধীজির হিন্দু ধর্ম মানি। আপনাদের মতো ‘ফেক’ ধর্ম নয়।’  এরপর মমতা শুভেন্দুর উদ্দেশে বলেন, ‘‘আমি ‘ইগনোর’ করি আপনাকে। সবাইকে অসম্মান করবেন না। আমি জন্মভূমিকে শ্রদ্ধা জানাই। কিছু মানুষ দেশকে ভালবাসে। কেউ কেউ নিজের ‘মার্কেটিং’ করতে ভালবাসেন।’’

বক্তব্য শেষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এরপর
অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘১৭ জন বক্তা এই বিষয়ে বক্তৃতা করেছেন। আমি গর্বিত এই প্রস্তাব পাশ করার জন্য।’’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*