রোজদিন ডেস্ক : প্রতিবেশী ঝাড়খন্ডের হাজারিবাগে এক নাবালিকাকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে তার মা, এক তান্ত্রিক ও তার সঙ্গীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ছেলেকে সুস্থ করতে তান্ত্রিকের সঙ্গে যোগসাজসে নিজের বারো বছরের কন্যাকে হত্যা করার অভিযোগে বিদ্ধ মা। হাড়হিম এই ঘটনা সামনে আসতে শিউরে উঠেছেন স্থানীয় মানুষ, স্তম্ভিত পুলিশও। শুধু নৃশংস ভাবে হত্যাই না, পুত্রের মঙ্গল কামনায় চোখের সামনে কন্যাকে বলি দিতেও দেখে মা। অন্ধ বিশ্বাস, কুসংস্কারের বলি এই কন্যার গোপনাঙ্গে লাঠি প্রবেশ করিয়ে, মাথায় মেরে তার রক্ত নেয় তান্ত্রিক। ছোট্ট মেয়েটিকে হত্যার পর তাকে বলি দেয় তান্ত্রিক ও তার সঙ্গী। পরে তার দেহ একটি স্কুলের পিছনে ফেলে দেয় তারা।
গত ২৪ মার্চ রামনবমীর রাতে গোটা এলাকা যখন উৎসবে মাতোয়ারা, তখন এই তিনজন মিলে ভয়ংকর এই কাজ করে।
সূত্রের খবর, ধৃত রেশমি দেবীর (৩৫) ছোট ছেলে মানসিক, শারীরিকভাবে অসুস্থ, তাকে সুস্থ করতে তান্ত্রিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করে মা নিজেই মেয়েকে তান্ত্রিকের কাছে নিয়ে যায়। তার ওপর নৃশংস অত্যাচারও দেখে।
মেয়েটির মৃতদেহ মেলার পর তার শরীরে ভয়ংকর অত্যাচারের চিহ্ন দেখে শিউরে ওঠে পুলিশই। এর তদন্তে সিট গঠন করা হয়। ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক রিপোর্টে কোন ধর্ষণের রিপোর্ট মেলেনি। এরপর পুলিশ তদন্ত করে তান্ত্রিক ভীম রাম, তার সঙ্গী শান্তি ও রেশমিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা নানা ভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। শেষ অবধি এই হাড়হিম খুনের রহস্য ভেদ করা হয়। এর প্রতিবাদে স্থানীয় মানুষ তুমুল বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। মহিলা কমিশনের এক প্রতিনিধি দল বুধবার সেখানে যান।
ধৃতদের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তান্ত্রিক ভীম রামের বিরুদ্ধে আগেও তার বৌদি ও এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ আছে।
কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কিভাবে সচেতনতা গড়ে তোলা যায়, প্রশাসন ভাবনাচিন্তা করছে।

Be the first to comment