বেলাগাম সাইবার ক্রাইম, ডিএসসিআই-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষায় কপালে ভাঁজ আম জনতার

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : হাজার চেষ্টা, টানা প্রচার, একের পর এক আইন, কিন্তু রোখা যাচ্ছে না সাইবার ক্রাইম। উল্টে দিনকে দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে সাইবার ক্রিমিনালরা। ফলে বাড়ছে জালিয়াতি, প্রতারণা, ডিজিটাল অ্যারেস্ট, তোলাবাজি, ব্ল্যাকমেলিংয়ের মতো অপরাধ। হাজার বার সতর্ক করেও রোখা যাচ্ছে না ওই অপরাধীদের। বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, সাইবার অপরাধের মূলে রয়েছে মূলত দুটি ফ্যাক্টর। সেটা হল মানুষের লোভ ও ভয়, এই দু’টিকে পুঁজি করেই চলছে এই অপরাধচক্র। সাইবার অপরাধের দুনিয়া নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই নিত্য নতুন খবর উঠে আসছে। এবার যে তথ্য সামনে এসেছে তাতে পুলিশ, প্রশাসনের ঘুম উড়তে বাধ্য। ২০২৫ সালে দেশের টেলি কমিউনিকেশন মন্ত্রকের তথ্য বলছে, ভারতে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই বিপুল জনতার যে কেউ যে কোনও সময় সাইবার জালিয়াতির শিকার হতে পারেন। কারণ, দেশজুড়ে প্রতি মিনিটে সাইবার ক্রিমিনালদের টার্গেট গড়ে ৭৬১টি মোবাইল ফোন। ডেটা সিকিওরিটি কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া বা ডিএসসিআই-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা রিপোর্টে এই তথ্য সামনে এসেছে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন মাসে অন্তত তিনবার হ্যাক করার চেষ্টা চালাচ্ছে জালিয়াতরা। ফোনের সিকিউরিটি সিস্টেম দিন দিন অনেক উন্নত হওয়ায় তারা সফল হচ্ছে না, এটাই বাঁচোয়া। তাই বিভিন্ন ম্যালওয়্যার ঢোকানোর চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হচ্ছে। এখন প্রশ্ন, কারা বেশি টার্গেট? তা নিয়েও ওই রিপোর্টে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, মূলত, অটোমোবাইল সংস্থা, সরকারি মন্ত্রক ও বিভিন্ন দফতরে কর্মরতরাই অপরাধীদের প্রাইম টার্গেটের তালিকায় রয়েছেন। দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত লোকজন। তাঁদের মোবাইল ফোন কেন টার্গেট হচ্ছে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে ওই রিপোর্টে। রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের মধ্যে সুরাত ও বেঙ্গালুরুর বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনই অপরাধীদের প্রথম পছন্দ। ৫০ শতাংশ সাইবার অ্যাটাকের ক্ষেত্রে মোবাইলে ঢুকে বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ড্রাইভ থেকে তথ্য হাতানোর চেষ্টা করে জালিয়াতরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সতর্কতা ছাড়া এই রোগ থেকে বাঁচার আর কোনও বিকল্প নেই।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*