নিজস্ব প্রতিবেদক, কৃষ্ণনগর :
অতিরিক্ত আয়ের লোভ দেখিয়ে ভুয়ো মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ৪০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নদীয়ার ধুবুলিয়া থেকে নাসিম সেখ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃত যুবকের বাড়ি ধুবুলিয়া থানার সোনডাঙ্গা এলাকায়। ধৃতকে কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মহম্মদ আর্সেলান একটি অনলাইন অ্যাপে চড়া রিটার্নের লোভ দেখে ধাপে ধাপে মোট ৪০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন। কিছুদিনের মধ্যেই অ্যাপটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁর পুরো টাকাই আটকে পড়ে। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে তিনি জাতীয় সাইবার অপরাধ রিপোর্ট পোর্টালে (NCRP) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
দেশজুড়ে সাইবার প্রতারণা রুখতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা ও তদন্ত শুরু হয়। নদীয়ার ধুবুলিয়া থানার পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, প্রতারিত অর্থের একটি বড় অংশ সোনডাঙ্গার বাসিন্দা পেশায় পোল্ট্রি ও ছাগল সরবরাহের ব্যবসায়ী নাসিম সেখের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।
এমনকী প্রতারিত ব্যবসায়ীর সঙ্গে নাসিমের আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল বলেও জানা গিয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ক্রমাগত সচেতনতামূলক প্রচার চালানো সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ প্রায়শই অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ভুয়ো অ্যাপের ফাঁদে পা দিচ্ছেন। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রকার সঠিক যাচাই না করে কোথাও টাকা বিনিয়োগ করলে মুহূর্তের মধ্যে জীবনের সমস্ত সঞ্চয় হারিয়ে নিঃস্ব হতে হতে পারে।বর্তমানে এই ডিজিটাল প্রতারণার চক্র কতদূর বিস্তৃত এবং এই ঘটনার নেপথ্যে আর কারা জড়িয়ে রয়েছে, তা জানতে ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

Be the first to comment