রোজ দিন ডেস্ক :
ঘরে বাইরে প্রবল চাপের মুখে আজ শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিলেন। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গত প্রায় তিন মাস চলা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে আজ শেষ পর্যন্ত তিনি ইস্তফা দেওয়ায় বিভিন্ন মহলে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। বিজেপি সরকারের আমলে এই প্রথম তাঁরা তীব্র জন আন্দোলনের চাপে নত হলেন বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করেন।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবার ই প্রথম নয়। এবার এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর পুরো পরীক্ষা বাতিলের জেরে একের পর এক মেধাবী পড়ুয়া আত্মঘাতী হন। দেশব্যাপী এর প্রতিবাদ উঠলেও কেন্দ্র কোন ব্যবস্থা ই নেয় নি। দ্বিতীয় বার পরীক্ষা নেওয়া হলেও বহু পড়ুয়ার মনোবল ই ভেঙে গেছিল।। নিট নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে বিদেশ থেকে অভিজিৎ দীপকে দিল্লি চলে আসেন। মূলত তাঁর নেতৃত্বে যন্তরমন্তরে নবগঠিত ককরোচ জনতা পার্টির ( সি জে পি) বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয়,যার প্রধান দাবি ই ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। গত ২৮ জুন বিখ্যাত শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক তাঁদের আন্দোলনে অংশ নিয়ে অনশন শুরু করলে তা গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা নেয়। কংগ্রেস শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই আন্দোলনে সংহতি জানান৷ ক্রমে এই আন্দোলন দাবানলের মত সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়ে।
খোদ প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী কেন্দ্র বারানসি সহ একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে এই আন্দোলন বিশাল আকার নেয়। চাপ বাড়তে থাকায় অতি সম্প্রতি মুখ খোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশ্ন ফাঁসে কঠোর শাস্তির নিদান নেওয়ার আশ্বাস দেন।
আজ ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে কেন্দ্রর বৈঠকে র আগে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা তাঁদের বড় জয় বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।
সমাজ মাধ্যমে আজ দুপুরে ইস্তফার ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
আজ সকালেই কংগ্রেস শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে অন্য দফতরে দেওয়া হতে পারে। তাঁরা কিছুতেই তা মানবেন না।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সহ কেন্দ্র তাঁদের তিনটি দাবিই মেনে নেওয়ায় উচ্ছাসে ফেটে পড়েছেন সিজেপি নেতা, সমর্থকরা। এরপর তাঁরা শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিও তুলবেন বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করেন।

Be the first to comment