লাইভ স্ট্রিমিংয়ে দূর্নীতির অভিযোগে বাংলার ওয়েব কাস্টিং সংস্থার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করল নির্বাচন কমিশন

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনে লাইভ স্ট্রিমিংয়ে দূর্নীতির অভিযোগে বাংলার ওয়েব কাস্টিং সংস্থার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করল নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের যে নির্দেশ প্রথম দিন থেকেই রয়েছে সেই নির্দেশ কিন্তু পালন করা হয়নি ২০১৬ এর বিধানসভা নির্বাচন থেকে, আর এখানেই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাহলে কিভাবে একটি সংস্থা যাদের কাজের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকে গিয়েছে প্রথম থেকেই তাঁরা কিভাবে বছরের পর বছর এই একই কাজের বরাত পেয়েছে?
কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের যে নির্দেশিকা আছে সেই নির্দেশিকা মেনে ২০১৬ সাল থেকে ওয়েট কাস্টিংয়ের কাজ করা হয়নি বলেই অভিযোগ করেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। সাম্প্রতিক অতীতে অর্থাৎ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের যে সংস্থা এই বরাত পেয়েছিল সেই ফো-কম প্রাইভেট লিমিটেড চুক্তি ভঙ্গ করেছে অনেক জায়গাতেই। ওয়েব ক্যাস্টিংয়ে অনেক জায়গাতেই একই ছবি বারংবার দেখানো হয়েছে তো অনেক জায়গাতেই আবার ব্ল্যাঙ্ক থেকে গিয়েছে, আবার অনেক জায়গাতেই দেখা গিয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার মুখ ঘোড়ানো আছে। আর এর ফলেই ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের জন্য তাঁদের যে বরাত দেওয়া হয়েছিল সেখান থেকে প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা হিসেবে কেটে নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে প্রত্যেকবার নির্বাচনের সময় ওয়েবকাস্টিং কিভাবে হবে তা নির্ধারণ করার জন্য একটি কমিটি আছে তাঁরাই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানায়। সেই কমিটিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের আধিকারিক থেকে শুরু করে এনআইএসের আধিকারিক এবং রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের আধিকারিক সহ অনেকেই এই কমিটিতে থাকেন। এখন প্রশ্ন উঠছে তাহলে কিভাবে বছরের পর বছর যখন একটি কোম্পানি তাঁদের কাজের শর্ত ভঙ্গ করার পরেও কিভাবে বছরের পর বছর বরাত পেয়ে গিয়েছে এই ওয়েব কাস্টিংয়ের কাজের জন্য।
নির্বাচন কমিশন সুত্রের খবর, ২০১৬ এর বিধানসভা নির্বাচন থেকে এই ফো-কম প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি ২০২৪ সাল পর্যন্ত সমস্ত নির্বাচনের কাজে ওয়েব কাস্টিংয়ের কাজ করে এসেছে। কিন্তু টেন্ডার পূরণ করতে হলে যে সকল শর্ত থাকে সেই শর্ত বারবার পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ার পরেও কেন একই সংস্থাকে বারবার এই একই কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে সেই নিয়ে এবার সরব হতে চলেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল ভারতীয় জনতা পার্টি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় বিজেপি বারবার অভিযোগ করেছিল এই ওয়েবকাস্টিংকে কেন্দ্র করেই। দেরীতে হলেও আদপে এবার দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে সকলের কাছে গণতন্ত্র যেখান থেকে প্রতিষ্ঠা হওয়ার কথা ঠিক সেখানেই দুর্নীতির আতুর ঘর হয়ে আছে। তাই এবার কি এই আঁতুর ঘর ভেঙে নির্বাচন কমিশন স্বমহিমায় তার নিজের গরিমাকে ফের সকলের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হবে এটাই এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*