মধ্যপ্রদেশে বিজেপি নেতা মহেন্দ্র নাগরের এক প্রান্তিক কৃষক রামস্বরূপকে গাড়ি চাপা দিয়ে পিষে মারা এবং তাঁরই দুই মেয়ের শ্লীলতাহানি করার প্রতিবাদে এবারে রাস্তায় নামল পশ্চিমবঙ্গ কিষান ক্ষেত মজদুর তৃণমূল কংগ্রেস। মধ্যপ্রদেশের ওই নারকীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বৃহস্পতিবার ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে প্রাক্তন কৃষি মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুর নেতৃত্বে একটি ধিক্কার সভা এবং সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো, তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার, প্রাক্তন বিধায়ক চাঁদ মহম্মদ, সাংসদ দোলা সেন, সমাজকর্মী বর্ণালী মুখার্জী, বিশিষ্ট সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্য সহ বিভিন্ন জেলার বিশিষ্ট নেতা ও সভাপতিরা।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ধর্ম নিয়ে ভেদাভেদ, নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা, মানুষের খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ, ভাষা নিয়ে বিতর্ক বিশেষ করে বাংলা ভাষা নিয়ে সমস্যা— এই সব কিছু নিয়েই বারবার অভিযোগের আঙুল উঠেছে বিজেপি সরকারের দিকে। বৃহস্পতিবারের এই ধিক্কার সভা থেকে মঞ্চে উপস্থিত সকলে একই কথা বলেন। পূর্ণেন্দু বসু বলেন, যে, বিজেপি নেতা মহেন্দ্র নাগরের এরূপ আচরণের প্রতি তীব্র ধিক্কার জানাতেই এই সভা। এবং শুধু এই সভাতে উপস্থিত হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। জেলাস্তরে মিছিল বের করতে হবে, জানাতে হবে প্রতিবাদ। সাংসদ দোলা সেনও বলেন, যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কখনোই গরিব কৃষক ভাইদের অপমান, অবমাননা, লাঞ্ছনা বা মৃত্যু কিছুই চুপচাপ সহ্য করেনি। সেটা সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম হোক বা অন্য কৃষক আন্দোলন। এবারেও তার অন্যথা হবে না। বিজেপি সরকার যেভাবে নিজের আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করতে চাইছে, পায়ের তলায় পিষে দিতে চাইছে তাদের অপছন্দের মানুষদের,খর্ব করতে চাইছে সামাজিক অধিকার, তা একেবারেই মেনে নেওয়া হবে না। মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো বলেন, যে, বিজেপি সরকারের সকল নেতামন্ত্রীরাই নিজেদের মানবিকতা বিকিয়ে দিয়েছে। ব্রিটিশদের মতো করে নির্বাচন করাতে চাইছে, তাই ধীরে ধীরে তারা পথের কাঁটাদের সরাতে চাইছে। জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, যে, এভাবে দেশের প্রান্তিক মানুষদের ক্ষতি করা, তাদের এভাবে পিষে মেরে ফেলা খুবই ন্যক্কারজনক ঘটনা। বর্ণালী মুখার্জী, সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্যও এই নারকীয় ঘটনার প্রতিবাদে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে বিজেপি সরকারকে তিরস্কার করেন।

Be the first to comment