প্রথমবার কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর সঙ্গে যুক্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Spread the love

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর:

এ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে যেন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিল—যদিও তা ভার্চুয়াল মাধ্যমেই। প্রথমবার কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোয় যুক্ত হতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন থেকে একযোগে চন্দননগর ও কৃষ্ণনগরের একাধিক পুজো মণ্ডপ তিনি ভার্চুয়ালি পরিদর্শন করবেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, এই কর্মসূচি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ২৯ অক্টোবর।

নবান্ন থেকে সরাসরি সংযোগ থাকবে কৃষ্ণনগরের চাষাপাড়া বারোয়ারির ঐতিহ্যবাহী বুড়িমা পুজো এবং পাত্রবাজার স্বীকৃতি ক্লাবের জগদ্ধাত্রী পুজোর সঙ্গে। দুই মণ্ডপেই বড় পর্দায় মুখ্যমন্ত্রীর লাইভ উপস্থিতি দেখা যাবে। শহরের পুজোপ্রেমীরা বলছেন, কৃষ্ণনগরের পুজো এবার রাজ্যব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রে।

প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে জোর

মুখ্যমন্ত্রীর ভার্চুয়াল দর্শন নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ক্লাব ও বারোয়ারিগুলির সঙ্গে বৈঠক করছে। পুজোর দিনে মণ্ডপে বড় পর্দায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে সংযুক্ত করা হবে। উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা, জনপ্রতিনিধিরা এবং পুজো উদ্যোক্তারা।

নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা জোরদারে প্রশাসন বিশেষ দল গঠন করেছে। নেটওয়ার্ক সংযোগ, ক্যামেরা, স্ক্রিন ও সাউন্ড সিস্টেমের খুঁটিনাটি পরীক্ষা চলছে। জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর ভার্চুয়াল পরিদর্শনের দিনে বিকেল থেকেই সমস্ত ব্যবস্থা প্রস্তুত থাকবে।

নদিয়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণনগরের দু’টি জগদ্ধাত্রী পুজোর সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সমস্ত ব্যবস্থা নিচ্ছি, যাতে অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।”

রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গর্বের মুহূর্ত

কৃষ্ণনগর লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, “মৃৎশিল্পের শহর কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজো মানেই বিশাল উৎসব। এবার মুখ্যমন্ত্রী নিজে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন—এটা আমাদের কাছে এক বড় সম্মান। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণনগরের পুজোকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন, এটাই শহরের গর্ব।”

ঐতিহ্যের পুজো, নতুন অধ্যায়

চাষাপাড়া বারোয়ারির সম্পাদক গৌতম ঘোষ জানান, “আমাদের বুড়িমার পুজো ২৫৩ বছরে পদার্পণ করছে। এতদিন আমরা কাউকে দিয়ে উদ্বোধন করাইনি। তবে এবারে মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হচ্ছেন—এটা আমাদের কাছে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। উনি যদি সরাসরি এসে উদ্বোধন করতেন, তাহলে আরও আনন্দ হত।”

অন্যদিকে, পাত্রবাজার স্বীকৃতি ক্লাবের সদস্য সৌমাল্য ঘোষ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমাদের পুজো দেখবেন—এটা গর্বের এবং আনন্দের বিষয়। নির্দিষ্ট সময়ে মণ্ডপের সমস্ত কাজ শেষ করতে আমরা জোরকদমে প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

কৃষ্ণনগরের পুজো এখন রাজ্যজোড়া নজরে

উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেছেন কৃষ্ণনগরের দুর্গাপুজো। তবে এবারে প্রথমবার শহরের প্রধান উৎসব জগদ্ধাত্রী পুজোয় তাঁর সংযুক্তি ঘটতে চলেছে। আগে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোয় উদ্বোধনের পর এবার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের শহর কৃষ্ণনগরও যুক্ত হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর ভার্চুয়াল দর্শনের তালিকায়।

সব মিলিয়ে, কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর ইতিহাসে এ বছরটি নিঃসন্দেহে এক নতুন অধ্যায়—যেখানে ঐতিহ্য, প্রযুক্তি এবং প্রশাসনিক সৌহার্দ্যের সেতুবন্ধন ঘটছে এক উৎসবের আবহে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*