রোজদিন ডেস্ক :
রাজ্যে আগামী দু বছরের মধ্যে চারটি বিমানবন্দর (Four New Airports) গড়ে উঠতে চলেছে। আজ এই মর্মে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হোল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রীকে রামমোহন নাইডুর উপস্থিতিতে নবান্নে তা স্বাক্ষরিত হয়। হাসিমারা, কলাইকুন্ডা, বালুরঘাট ও পুরুলিয়ায় এই নতুন, অত্যাধুনিক বিমানবন্দর গুলি গড়ে উঠবে। এর ফলে রাজ্যে বিমানবন্দরের সংখ্যা বেড়ে হবে আটটি।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রাক্তন সরকারের সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামমোহন নাইডু বলেন, আগের সরকার রাজ্যের মানুষদের কেন্দ্রীয় প্রকল্পের থেকে দূরে রেখেছিল। এর ফলে এই রাজ্যে উন্নয়নের স্বপ্ন তাঁরা পূরণ করতে পারেননি। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর উচ্ছসিত প্রশংসা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর উনি এক সেকেন্ডও নষ্ট না করে রাজ্যের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণের প্রয়াস নিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বিমানবন্দর-সহ সব ক্ষেত্রেই প্রাক্তন সরকারের অসহযোগিতা নিয়ে তোপ দাগেন। বলেন, হাসিমারা, কলাইকুন্ডায় সেনা অনেক আগেই অনুমতি দিলেও জমি দেয়নি রাজ্য। রাজ্যে দ্বিতীয় বিমানবন্দর তৈরির জন্য প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া চিঠি দিলেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জমি দিতে অস্বীকার করেন।
পরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে দেশের উড়ান ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অবদানের উচ্ছসিত প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,আগে সাধারণ মানুষ বিমানে চড়ার কথা ভাবতেও পারতেন না, এখন চপ্পল পরা মানুষও বিমানে যাচ্ছেন! মোদিজি আসার আগে দেশে চুয়াত্তরটা বিমানবন্দর ছিল, ওঁর আমলে তা বেড়ে হয়েছে একশো ষাটটি! হাসিমারা ও কলাইকুন্ডায় যথাক্রমে পঁচিশ একর ও সাঁইত্রিশ একর জায়গা চাওয়া হলেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তা দেন নি।কল্যাণীতে তাঁরা দ্বিতীয় বিমানবন্দর করছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। হাসিমুখে বলেন, উত্তরবঙ্গে দুই নতুন বিমানবন্দর হলে মালদার আম, আমসত্ত্ব, তুলাইপাঞ্জি চাল, আনারস ইত্যাদি তাড়াতাড়ি চলে যাবে। শিল্পায়ন ও পর্যটন ক্ষেত্রে অনেক উন্নয়ন, ভাল হবে।
উত্তরবঙ্গে হলং বাংলো, বক্সার জঙ্গলে বাঘ ছাড়া ইত্যাদির কথা বলেন।
জঙ্গল মহলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যর জন্য বহু মানুষ যান, কলাইকুন্ডা তাঁদের সুবিধা করে দেবে৷ এই সব বিমানবন্দর হলে রাজ্য তার অনেক সুবিধা পাবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

Be the first to comment