নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর:
বৃষ্টি যেন কিছুই করতে পারেনি। আকাশ মেঘে ঢাকা, মাঝেমধ্যে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, তবু থামেনি মানুষের ভিড়। এ বছর জগদ্ধাত্রী পুজোয় কৃষ্ণনগর শহর আবারও প্রমাণ করল— ভক্তি আর আনন্দের জোয়ারে কোনও বাধাই টিকতে পারে না।
সপ্তমী থেকেই শুরু হয়েছিল মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। সাধারণত একদিনের পুজো হিসেবে পরিচিত এই শহরের জগদ্ধাত্রী উৎসবে এবার নিয়ম ভেঙে সপ্তমীতেই ঠাকুর দেখা শুরু হয়। নবমীর সন্ধ্যা নামতেই যেন বাঁধ ভাঙা জলোচ্ছ্বাস। শহরের অলিগলি, রাজপথ, চত্বরে নেমে আসে জনতার ঢল। বৃষ্টি মাঝেমধ্যে কিছুটা বিঘ্ন ঘটালেও, মানুষের উচ্ছ্বাস তাতে একটুও ম্লান হয়নি।

প্রতিবারের মতোই এবারে শহরজুড়ে কয়েকশো পুজো হলেও, বাছাই করা শীর্ষ দশটি পুজোতেই ছিল সবচেয়ে বেশি ভিড়। সেই ভিড় সামলাতে হিমশিম খেয়েছে পুলিশ প্রশাসন। শহরের মূল রাস্তাগুলিতে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ, ভিড় সামলাতে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী মোতায়েন, আর সর্বক্ষণ চলছিল সিসিটিভি ও ড্রোনের নজরদারি।
পুজোর আনন্দ শেষ হতেই শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয় ভাসানের প্রস্তুতি। ঐতিহ্য মেনে সকালে হয় ঘট ভাসান, আর সন্ধ্যা থেকে একে একে শুরু হয় প্রতিমা নিরঞ্জন। কৃষ্ণনগরের রাজবাড়ি থেকে হাই স্ট্রিট চত্বর পর্যন্ত মানুষের ঢল আবারও চোখে পড়ার মতো। শহরের আকাশে বাজনা, ঢাকের শব্দ, আর ভাসানের গানের তালে গিয়ে মিশে যায় পুজো-পরবর্তী আবেগ।

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের সতর্কতা চোখে পড়ার মতো। পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও ভিড় নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ছিলেন। ভাসান চলাকালীন কোনও অশান্তি বা দুর্ঘটনা এড়াতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বৃষ্টি, ভিড় আর উচ্ছ্বাসে ভরপুর কৃষ্ণনগরের এবারের জগদ্ধাত্রী পুজো যেন হয়ে উঠল ঐতিহ্য আর আবেগের মেলবন্ধন। শহরের মানুষ বলছেন— এই উৎসবের আমেজ থেকে বেরোতে সময় লাগবে অনেক দিন।

Be the first to comment