রোজদিন ডেস্ক : কেরলের শবরিমালা মন্দির দর্শনে গিয়ে বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। আজ সকালে রাজীব গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়ামে তাঁর হেলিকপ্টার অবতরণ করতেই সদ্য নির্মিত হেলিপ্যাডের একটি অংশ ভেঙে মাটিতে ঢুকে যায়। হেলিকপ্টারের চাকাও মাটিতে বসে যেতে থাকে। পুলিশ ও দমকল কর্মীরা কোন রকমে তা ঠেলে তুলে দেন।
পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, প্রথমে পাম্বার কাছে নীলাক্কলে রাষ্ট্রপতির হেলিকপ্টার নামার কথা ছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য একদম শেষ মুহূর্তে তা প্রমোদমের কাছে রাজীব গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়ামে অবতরণের সিদ্ধান্ত হয়। ফলে ভাল করে তা না শুকোনোয় এই বিপত্তি।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই ঘটনার খবর শুনে তীব্র উদবেগ ব্যক্ত করেন। সমাজ মাধ্যমে তিনি বলেন, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আজ সকালে কেরলে বড় দুর্ঘটনায় হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কামনা করেন।
আচমকা এই বিপত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়ের থেকে কিছু দেরিতে দ্রৌপদী মুর্মু শবরিমালা মন্দিরে পৌঁছোন বলে জানা গেছে।
তিনি সড়কপথে পাম্বা যান। সেখানে পম্পা নদীতে চরণ ধুয়ে নিকটবর্তী গণপতি মন্দির-সহ অন্য মন্দিরে পুজো দেন।
শবরিমালার ঐতিহ্য মেনে আজ তিনি কালো রঙের শাড়ি পরেছিলেন। সান্নিধনমে তিনি ১৮টি পবিত্র সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠেন। কেরালার দেবশ্বম মন্ত্রী ভি এন বাসবন ও ত্রাবানকুর দেবশ্বম পর্ষদের সভাপতি পি এস প্রশান্থ তাঁকে স্বাগত জানান।
মন্দির কর্তৃপক্ষ একটি পুর্ণ কুম্ভ সহ তাঁকে নিয়ে যান। রাষ্ট্রপতি প্রথা মেনে বিখ্যাত আয়াপ্পা মন্দিরে পুজো দেন। নিকটবর্তী সব মন্দির ভক্তিভরে দর্শন করেন। তাঁর এই সফর উপলক্ষে আজ ওখানে দর্শকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
দ্রৌপদী মুর্মু হলেন দ্বিতীয় রাষ্ট্র পতি, যিনি এই মন্দির দর্শন করলেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি এই মন্দিরে গেছিলেন।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁর জামাতা গনেশ চন্দ্র হেমব্রম, এডিসি সৌরভ এস নায়ার, পিএসও বিনয় মাথুর-সহ পদস্থ আধিকারিকরা ছিলেন। আজ বিকেলে তাঁর তিরুবন্তপুরম যাওয়ার কথা। গতকাল সন্ধ্যায় চার দিনের সফরে রাষ্ট্রপতি কেরালা গেছেন।

Be the first to comment