বাড়ল জটিলতা, তৃণমূল আমলে নতুন নিয়মে জারি হওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্রই বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট

Spread the love

প্রতিবেদন: আর ওবিসি-‘এ’ বা ওবিসি-‘বি’ নয়। ওবিসি শংসাপত্র হবে একটাই। তৃণমূল সরকারের আমলে নতুন নিয়মে জারি হওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্রই বুধবার বাতিল করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এদিন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অনুজ সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি বিভাজন এখন আর নেই। তাই এই শংসাপত্রগুলির আর কোনও বৈধতা নেই। যাঁদের এই শংসাপত্র রয়েছে, তাঁরা এখন থেকে জেনারেল ক্যাটেগরি হিসেবেই গণ্য হবেন। তৃণমূলের আমলে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি বা ওবিসি শংসাপত্র নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ২০১০-এর আগে পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে মোট ৬৬টি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি বলে গণ্য করা হত পরে নতুন করে আরও ১৪০টি জনজাতিকে এই সংরক্ষণের আওতায় আনার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। যা নিয়ে মামলাও দায়ের হয়েছিল হাইকোর্টে। ২০২৪ সালে এই সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্ট ৭৪টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেয়। তবে ইতিমধ্যেই বাকি ৬৬টি সম্প্রদায় ওই শংসাপত্রের ভিত্তিতে যে সুযোগ পেয়েছেন তাঁদের ছাড় দেয় আদালত। এবং নতুন করে সমীক্ষার মাধ্যমে তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে যায় তৎকালীন রাজ্য সরকার। তবে শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রাখে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এর পরেই নতুন করে সমীক্ষা করে ওবিসি শ্রেণিবিন্যাসে ‘এ’ এবং ‘বি’ তালিকায় কিছু বদল করে তৃণমূল সরকার। এদিকে পালাবদলের পর রাজ্যের নয়া সরকার সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলা তুলে নেয়। পাশাপাশি, হাইকোর্ট যে ৭৪টি সম্প্রদায়কে নতুন করে ওবিসি সংরক্ষণের সুযোগ না দেওয়ার যে নির্দেশ দিয়েছিল, গত ১৮ মে তার ভিত্তিতে বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রশাসন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ফের হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। এদিন সেই মামলাতেই ২০২৫ সালে ইস্যু করা ওই সমস্ত শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিল আদালত। একই সঙ্গে যাঁরা আগের তালিকার ভিত্তিতে নতুন করে ওবিসি শংসাপত্রের জন্য আবেদন করেছিলেন এবং শংসাপত্র পেয়েছিলেন, তাঁরা আর সংরক্ষণের আওতায় পড়বেন না। তাদের জেনারেল ক্যাটাগরিতেই ধরা হবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*