রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- রবিবার সন্দেশখালির সভায় গিয়ে মহিলাদের সিঁদুর ও শাঁখার বিষয়ে মন্তব্য করায় শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের নেতৃত্ব কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শশী পাঁজা।
এদিন কাকলী বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীকে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। অথচ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কুৎসিত মন্তব্য করার জন্য না কেউ ক্ষমা চেয়েছে, না বিজেপির তরফে নিন্দা করা হয়েছে। বরং শীর্ষ নেতাদের বাহবা পেয়েছে সেই মন্তব্য। ওরা কীভাবে ‘সম্মান যাত্রা’ করতে পারে মহিলাদের জন্য? এতে ওদের বাংলা-বিরোধী ও নারী-বিরোধী মানসিকতা পরিষ্কার।”
বহুদিন ধরে কেন্দ্রীয় তহবিল আটকে রাখার প্রসঙ্গ তুলে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থান বিক্ষোভ করেছেন, কারণ কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার গরিব মানুষের প্রাপ্য টাকা আটকে রেখেছে। বাংলার প্রায় ১.৭৫ লক্ষ কোটি টাকা ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখেছে কেন্দ্র। ওরা জিএসটি মারফত টাকা নিচ্ছে, কিন্তু আমাদের প্রাপ্য অংশ দিচ্ছে না।”
সন্দেশখালির ঘটনাকে বিজেপির পরিকল্পিত প্রতারণা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “ওরা সন্দেশখালির মহিলাদের ভুল বুঝিয়ে, ঠকিয়ে, তাঁদের দিয়ে সাদা কাগজে সই করিয়ে পরে তাঁদের নাম করে ভুয়ো অভিযোগ দায়ের করেছে। একটি স্টিং ভিডিওয় দেখা গেছে, বিজেপি অঞ্চল সভাপতি নিজেই বলছে, মহিলাদের প্রতারিত করেছে বিজেপি।” তিনি আরও বলেন, “সেই সন্দেশখালিতেই আবার গতকাল মহিলাদের অপমান করা হয়েছে। বিজেপিকে ক্ষমা চাইতেই হবে।”
বিজেপির দ্বিচারিতা তুলে ধরে ড. শশী পাঁজা প্রশ্ন তোলেন, কেন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে এরকম প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না? তিনি বলেন, “বর্তমানে ওরা বহু রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী কেন সেই সব রাজ্যে এই প্রকল্প চালুর দাবি করছেন না? কেন ওখানে প্রতিটি মহিলাকে ৩,০০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে না?” তিনি আরও বলেন, “মহারাষ্ট্রে জেতার পরদিনই আমলারা প্রকল্পের কাঠামো নতুন করে ভাবতে শুরু করে দেয়, কীভাবে এই প্রকল্প চালু থাকবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু হয়ে যায়।”

Be the first to comment