রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- সোমবার ডুমুরজোলা থেকে মুর্শিদাবাদের উদ্দেশে রওনা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী তিনদিন তিনি মুর্শিদাবাদে থাকবেন। এদিন হেলিকপ্টারে ওঠার আগে মুর্শিদাবাদ সফর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মুর্শিদাবাদে গিয়ে হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলবো। কেউ ক্ষতিপূরণের টাকা না-নিলে আমার কিছু করার নেই।’
ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ। ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী প্রথমবার পা রাখবেন সেখানে। সেখানে যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্য সরকারের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত ছিল। আমরা তা দিতেই যাচ্ছিলাম। কেউ টাকা না নিতে চাইলে সেটা তো আমাদের হাতে নেই। আমি এখন বহরমপুরে যাচ্ছি। সেখানে একটা প্রশাসনিক বৈঠক হবে। সেখান থেকে কাল ধুলিয়ানে যাব। আমি জানি, ওখান থেকে সকলকে নিয়ে চলে এসেছে। সে নিক। যাঁরা আছেন, আমি তাঁদের সঙ্গেই কথা বলব। তাঁদের কথা শুনব। বাড়ি করে দেব। যাঁদের দোকান ভেঙেছে, তাঁদের সাহায্য করব।’
উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদের অশান্তির জেরে মৃত্যু হয়েছিল তিনজনের। তাদের ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষতিপূরণ নিতে অস্বীকার করেন মৃতের পরিবার। এদিকে মৃতের বাড়িতে গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাদের হাতে ২০ লক্ষ টাকা তুলে দেন। পরে সেখানে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও। তবে অশান্তির পর এই প্রথম মুর্শিদাবাদে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন এত দেরি করে মুখ্যমন্ত্রী সেখানে যাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির। এদিন বিরোধী শিবিরের অভিযোগ কার্যত উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মুর্শিদাবাদে আমি আগেও যেতে পারতাম। কিন্তু যত ক্ষণ শান্তি না-ফিরছে, সেখানে যাওয়া উচিত নয়। আমি সেটাকেই ঠিক মনে করি। অনেক দিন আগে মুর্শিদাবাদে শান্তি ফিরেছে। কিন্তু আমার দিঘায় জগন্নাথধামের অনুষ্ঠান ছিল। অনেক দিন আগে সেটা ঘোষিত। তাই সে সব মিটিয়ে আমি এখন মুর্শিদাবাদ যাচ্ছি।’

Be the first to comment